ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নিষেধাজ্ঞায় সংসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় লক্ষ্মীপুরের জেলেরা

নিষেধাজ্ঞায় সংসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় লক্ষ্মীপুরের জেলেরা
×
×

নৌকায় জাল গুটিয়ে নিচ্ছেন জেলেরা। গতকাল বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট ঘাট এলাকায় সমকাল

মো. আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে ব্যস্ততা চলে জেলেদের। গতকাল বুধবারও এমন অবস্থাই চলার কথা ছিল। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে যতটা সম্ভব মাছ ধরে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করবেন জেলেরা, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জেলার মেঘনাতীরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট ঘাটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। 
ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা। কোনো নৌকায় ভেজা জাল শুকাতে দেওয়া হয়েছে, কেউ জাল গুছিয়ে রাখছেন, আবার কেউ নৌকার তেল-জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছেন। নদীতে জাল ফেলার বদলে ঘাটেই অলস সময় কাটছে অনেক জেলের। সেখানে কথা হয় জেলে রফিক মাঝি, মোস্তফা, সিরাজ, রাছেলসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। তারা বললেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মাছ ধরা বন্ধ থাকবে, বন্ধ হয়ে যাবে তাদের দৈনিক আয়। অথচ থামবে না সংসারের খরচ, এনজিওর ঋণের কিস্তি বা নৌকা-জালের জন্য নেওয়া মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ। মাছের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাদের দুশ্চিন্তা– ২২ দিন কীভাবে চলবে সংসার?

রায়পুর উপজেলার জামাল মাঝি (৬৫) জীবনের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়েছেন মেঘনায়। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশের ঝাঁক পাওয়া যায়, কোথায় জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি–দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সবই তাঁর জানা। এবার সেই অভিজ্ঞতাও যেন কাজে আসছে না। জামাল মাঝি বলেন, ‘এই বয়সে এসেও নদীতে নামতে হয়। মাছ ধরেই সংসার চলে। জাল ফেলছি, নদীতে ঘুরছি, কিন্তু আগের মতো ইলিশ পাচ্ছি না। অনেক দিন সারাদিন নদীতে থেকেও যে মাছ পাই, তাতে নৌকার তেলের খরচই ওঠে না। ভেবেছিলাম ইলিশের মৌসুমে কিছু টাকা জমাব। এখন নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে নদীতে নামতে পারব না। সংসার কীভাবে চলবে আর ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেটাই এখন চিন্তা।’
সদর উপজেলার চর রমনীমোহনে নদীতীরে একাধিক জেলের সঙ্গে কথা বলেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার জেলেরাও দুশ্চিন্তায় আছেন সংসার খরচ, ঋণ শোধ নিয়ে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। নদীনির্ভর সরকারি তালিকায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪২ হাজার ১৫০। নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরলে আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেবেন। 

আরও পড়ুন

×