বাজেয়াপ্ত হওয়া কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি সাবেক কর্মচারীর
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনিভাবে বিক্রি ও হস্তান্তরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর চললেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত কে এম এ নাহার যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের পিএ টু রেজিস্ট্রার (উচ্চমান সহকারী) পদে কর্মরত ছিলেন। সে সময় জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, কে এম এ নাহার নিজের ও স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানুর নামে গাইবান্ধায় ২৪ বিঘা জমি, ঢাকার বাড্ডায় সাড়ে সাত শতক জমি, মোহাম্মদপুরে ছয় তলার একটি ফ্ল্যাটসহ বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে দুদক নোটিশ পাঠালে তারা প্রকৃত সম্পদ গোপন করে মাত্র ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৪ টাকার সম্পদ প্রদর্শন করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৮৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত নিজ ও স্ত্রীর নামে ৩৩টি দলিলে জমি কেনা সত্ত্বেও ২০০৮ সালে বিভাগে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তা গোপন রাখা হয়। পরে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমিগুলো মসজিদ-মাদ্রাসায় দানের কথা বলা হলেও এর কোনো আইনি প্রমাণ মেলেনি। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে থাকা ফ্ল্যাটের আসবাবের মূল্যে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং অন্যান্য খাতে মোট ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করা হয়। তদন্তে সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়া তাঁর অন্য কোনো বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। সম্পদ গোপন ও ৪৪ লাখ ৪২ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মেলায় কে এম এ নাহারের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রমনা মডেল থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কে এম এ নাহারকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর দুটি ধারায় মোট ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কে এম এ নাহার ও তাঁর স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানুর নামে অর্জিত সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার চূড়ান্ত আদেশ দেন আদালত।
তবে আদালতের আদেশ অমান্য করে ২০২১ সালে কে এম এ নাহার পলাশবাড়ী পৌরশহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার ২০৩০ নম্বর দাগের সোয়া ১৩ শতাংশ জমি বোন মোর্শেদা বেগমকে লিখে দেন। একই মৌজায় ভাগনি নাহিদ সুলতানাসহ অন্যদের কাছে আরও ২৩ শতাংশ বাজেয়াপ্ত জমি বিক্রি করেন। বর্তমানেও বাকি সম্পত্তি নিজ দখলে রেখে গোপনে বেচাকেনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কে এম এ নাহার জালিয়াতির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব বিষয় আগেই মীমাংসা হয়েছে, তাই জমি বিক্রি করেছি। এখানে আপনাদের গণমাধ্যমের কিছু করার নেই; পরে এ নিয়ে কথা বলব।’
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতে বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের কোনো আইনি সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টি সরেজমিন খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দুদক রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. শাওন মিয়া এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান জানান, জালিয়াতি করে বাজেয়াপ্ত জমি বিক্রির বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সম্পত্তি উদ্ধার ও আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সম্পত্তি