গভীর রাতে মহাসড়কের একাংশে ২০ দোকান
ছবি-সমকাল
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৫৯ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৫২
বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের একাংশ দখল করে ২০টি অস্থায়ী দোকানঘর স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে স্টিলের পাত দিয়ে তৈরি চাকা লাগানো এসব দোকানঘর সেখানে এনে রাখা হয়। শিগগিরই দোকানগুলো চালু করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, চৌমাথার চার রাস্তার মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে কাঁচাবাজার পর্যন্ত ১২টি এবং সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজমুখী মেজর এম এ জলিল সড়কে আটটি দোকানঘর রাখা হয়েছে। মহাসড়কের প্রায় ২০ ফুট ভেতরে এসব ঘর স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি দোকানঘরে সিটি করপোরেশনের লোগো, দোকানির নাম ও ‘ফলের দোকান’ লেখা রয়েছে। দোকানঘরগুলো স্থাপনের কারণে বিসিসির মার্কেটের কয়েকটি দোকানও আড়াল হয়ে গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দোকানঘরগুলো সেখানে আনা হয়। এর আগে এগুলো নবগ্রাম রোডের খান সড়কে রাখা ছিল। আরও কয়েকটি দোকানঘর আনা হতে পারে বলেও জানান তারা।
চৌমাথা নগরীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা। দিন-রাত সেখানে যানজট লেগে থাকে। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচল করে। এমন ব্যস্ত সড়কের পাশে দোকানঘর স্থাপনে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার রাস্তার মোড়ের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে আগে শতাধিক অস্থায়ী দোকান ছিল। পরে সেখানে পাকা মার্কেট নির্মাণ করা হলে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। উচ্ছেদ হওয়া অন্য ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। আগের প্রশাসনের সময়ে তাদের সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকানঘর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ফল বিক্রেতা মো. জলিল হাওলাদার বলেন, সাবেক প্রশাসক রায়হান কাওছারের সময় ভ্রাম্যমাণ ফলের দোকানঘরগুলো তৈরি করা হয়েছিল। তখন তাদের বসতে দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোরে চৌমাথা মার্কেটের সামনে দোকানঘরগুলো এনে বসানো হয়েছে। করপোরেশন থেকে তাদের এখনও কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা বৃহস্পতিবারই ব্যবসা শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
বিসিসির হাটবাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক রেজাউল করিম বলেন, সড়কের ওপর দোকান স্থাপনের জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। চৌমাথায় অস্থায়ী দোকানঘর স্থাপনের খবর তারা জেনেছেন। এগুলো উচ্ছেদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিসিসির উচ্ছেদ শাখার প্রধান লকিতুল্লাহ সিকদার বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই চৌমাথা থেকে সড়ক দখল করে স্থাপন করা দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- উচ্ছেদ অভিযান
- বরিশাল
- দখল