ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরে জার্মান তরুণের ব্যাগ চুরি

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন শনাক্ত

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন শনাক্ত
×

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী ব্যুরো ও নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:৪১

নাটোর ভ্রমণে গিয়ে জার্মান তরুণের চুরি যাওয়া ব্যাগ গতকাল বৃহস্পতিবারও উদ্ধার হয়নি। ব্যাগে একটি ম্যাকবুক (ল্যাপটপ) ও একটি ক্যামেরা ছিল। এ ঘটনায় নাটোর রেলস্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন এক যুবককে ধরার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   

নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের আরএনবি কর্মকর্তা এএসআই আবু তালেব জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বুধবার বিকেলে রাজশাহীগামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে এক যুবকের সঙ্গে নাটোর স্টেশনে নামেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবার। ক্রিলের হাতে একটি ব্যাগ ছিল। পরে যুবককে নিয়ে স্টেশনের ভিআইপি বিশ্রামাগারে যান। সেখানে যুবকের কাছে ব্যাগটি রেখে পার্শ্ববর্তী বুথে যান ক্রিল। এ সময় যুবকটিকে ব্যাগসহ স্টেশন থেকে সান্তাহারের দিকে যাওয়া একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে দেখা যায়। পরে ফিরে এসে ব্যাগ আর যুবককে না পেয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করে সদর থানায় চলে যান তিনি। এ ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। 

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘জেলা পুলিশ জার্মান নাগরিকের চুরি যাওয়া মালপত্র উদ্ধার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। রেলস্টেশনসহ বেশ কিছু স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধী শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হব।’ 

ব্যাগের খোঁজে রাজশাহীতে
চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের খোঁজে বুধবার রাতেই রাজশাহী যান ক্রিল ল্যান্ডার। গতকাল দুপুরে তিনি বলেন, বুধবার নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কিনতে তিনি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন। তখন নিজের জিনিসপত্র একজনের কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। টাকা তুলে ফিরে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তাঁর জিনিসপত্র কোনোটাই নেই। ঘটনার পর পরই নাটোর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। 

ল্যাপটপের ব্যাগে কোনো পাসপোর্ট ছিল না জানিয়ে ক্রিল বলেন,  পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন তাঁর কাছেই আছে। তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই তাঁর প্রথম সফর। 

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, নাটোর সদর থানায় জিডির পর বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। 

ওসি বলেন, প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে ক্রিল রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও এসআরবি সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেসের মালিক ও কেয়ারটেকারদেরও বিষয়টি জানানো হয়।

ওসি জানান, ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাতে অবস্থানেরও পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে ল্যাপটপটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়। তিনি জানান, গতকাল সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা ছিল। পরে ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায় রেলওয়ে পুলিশ। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার হয়নি।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সঠিক লোকেশন পাওয়া গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’

পুলিশ জানায়, আরএমপি, ডিবি, র‍্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে। সেটিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×