বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, মামলায় আসামি শিবিরকর্মী
ফাইল ছবি
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:৫৯
সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের মামলায় আসামির তালিকা থেকে শিবিরকর্মীর নাম বাদ না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী। পুলিশকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার পর এক মাসেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে দলটি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ ওই মামলা দায়ের করে। এতে শফিকুল ইসলাম সায়েম নামে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকেও আসামি করা হয়। স্থানীয় জামায়াতের নেতারা বলছেন, থানার ওসি তাদের জানিয়েছেন মামলা থেকে সায়েমের নাম বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু মামলা দায়েরের মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর নাম বাদ না হয়নি।
এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড পৌর এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত। সেখানে নেতারা অবিলম্বে আসামির তালিকা থেকে সায়েমের নাম বাদ দেওয়া দাবি জানান।
সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কুতুর উদ্দিন শিবলী বলেন, ঘটনা জানাজানির পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ওসি আসামির তালিকা থেকে সায়েমের নাম বাদ দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। উপজেলা শিবিরের সভাপতি আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত শিবিরকর্মীর প্রত্যয়নপত্রও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এক মাস হয়ে গেলেও মামলা থেকে নাম এখনও বাদ দেয়নি পুলিশ।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের করা হয় ওই মামলা। এতে সুনির্দিষ্ট আসামি ২৪ জন, অজ্ঞাতনামা ১৫০ জন। মামলার আসামির তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ও শিবিরকর্মী শফিকুল ইসলাম সায়েমের নাম। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষ কর্মসূচি আহ্বান করে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার সাত দিন পর ৮ সেপ্টেম্বর পর পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে।
মামলার বাদী সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় কারও নাম ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা, সেটি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
শিবিরকর্মী কীভাবে মামলার আসামি হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার দিন পৌরসভার পাশে বিএনপির নেতাকর্মীর সঙ্গে লম্বা চুলের এক যুবককে দেখা গেছে। এমন তথ্যের কথা বলা হচ্ছে। তিনি শিবিরের কর্মী কিনা, তা শুধু ধারণার ভিত্তিতে বলা যাবে না। নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ থাকলে দিতে বলেন। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।