ভারতে লেমুর ‘পাচারের’ তদন্তে সময় লাগবে: পরিবেশমন্ত্রী
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৩১
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক নতুনভাবে সাজানোর আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, পার্কে যেসব প্রাণী নেই, সেগুলো ফিরিয়ে আনা কিংবা নতুন প্রাণী অন্তর্ভুক্ত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি পার্কের ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কার এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাফারি পার্ক থেকে লেমুর ভারতে পাচারের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, লেমুরগুলো কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে এবং পরে কীভাবে পার্ক থেকে বাইরে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতে পাওয়া দুটি লেমুর বাংলাদেশ থেকেই গেছে কিনা, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি দুই দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তদন্ত শেষ করতে সময় লাগতে পারে। তদন্তে পার্কের কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পার্কের সীমানা টপকে বেরিয়ে যাওয়া নীলগাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলগাইটিকে টাঙ্গাইল এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে মাঝে মাঝে দেখা যায় বলে জানা গেছে। পার্কে প্রাণীটির অনুপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেটিকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও ভাবা হবে।
বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, গাজীপুরের বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা গভীররাতে বনের ভেতরে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি চিঠি দিয়েছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না গেলে দূষণ রোধ করা কঠিন হবে। এ জন্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্প্রারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য পরিবেশ সংরক্ষণ। পাশাপাশি বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিকেল ৩টার দিকে সাফারি পার্কের কোর সাফারি এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রীর পরিদর্শনকালে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- পরিবেশমন্ত্রী