সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
টানা আন্দোলনের পর মন্ত্রীর আশ্বাসে ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষার্থীরা
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩৫ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪৬
টানা ১৩ দিন আন্দোলনের পর আগামীকাল রোববার থেকে ক্লাসে ফিরছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ফলে রোববার থেকে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
কলেজকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ বিভিন্ন দাবিতে গত মাসের শেষ দিকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হস্তক্ষেপ করেও তাদের আন্দোলন থেকে সরাতে পারেননি। এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের কথা জানালে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আট মাসের মধ্যে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী বলেন, কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে সিলেট প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এ জন্য সময় লাগবে।
কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর মাহমুদ বলেন, আমাদের সব দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ১৮ অক্টোবর পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্যাম্পাস পরিদর্শনেও আসবেন বলে জানিয়েছেন। তার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ক্লাসে ফিরব।
কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. সাহিদ ইকবালও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রমও শুরু হবে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, আন্দোলন থেকে সরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন। তাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। কলেজে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মন্ত্রী।
নগরীর টিলাগড়ের আলুরতল এলাকায় ২০০৭ সালে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কলেজটি নির্মাণে ভূমিকা রাখেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তবে পরবর্তী সময়ে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়নি। এমনকি শিক্ষকস্বল্পতার কারণে পাঠদানও বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, কলেজটিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে নেওয়া, পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং খেলার মাঠ নির্মাণ। আন্দোলনের শুরুতে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিলে অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক দুই দিন আটকা পড়েন। এরপর থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।