ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

হামলাকারীরা চিহ্নিত হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

হামলাকারীরা চিহ্নিত হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
×
×

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি থেকে হামলায় জড়িতরা চিহ্নিত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত সোমবার সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর পরও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের তদন্তের গতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, হামলাকারীরা অনলাইন ও অফলাইনে তাদের হুমকি দিচ্ছেন। এতে ক্যাম্পাসে তাদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এখনও তদন্ত চলছে। দ্রুতই তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ জামান কোরবান এবং দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল আহত হন। 

ঘটনার পরদিন হামলাকারীদের চিহ্নিত করে নাম-পরিচয় প্রকাশ করে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, জড়িত ছাত্রদল নেতারা হলেন– বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এম আহসান হাবীব, ছাত্রদলকর্মী ও অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (ড্রপআউট) শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক ও সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার আলম অথী, সহসভাপতি ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি ও আইবিএ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তাকবীর আহমেদ ইমন, ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম এবং ছাত্রদলকর্মী ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের তানিম রহমান।

ঘটনার তদন্ত করে গত সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তিন নেতাকে বহিষ্কার করে এবং সাত নেতাকে শোকজ নোটিশ দেয়। তবে তারা চিহ্নিত হওয়ার পরেও হল প্রশাসন বাদী হয়ে করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। একই দিনে ঘটনার তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। 

কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ও হামলায় জড়িত থাকায় এম আহসান হাবীব, হাসিবুল ইসলাম, বিশাল চক্রবর্তীর ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশ করেছে। আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ প্রশাসন ও পুলিশের কাছে রয়েছে। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। তাদের দাবি, হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীরা বৃহৎ আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি মীর কাদির বলেন, ‘অভিযুক্তদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীরা বৃহৎ আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবেন।’

হামলাকারীরা অনলাইনে ও অফলাইনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন অভিযোগ করে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা স্বাভাবিক। আমার ক্যাম্পাস জীবনের বাকি দেড় বছর হয়তো এই আতঙ্ক নিয়েই কাটাতে হবে।’

রাবি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসান বলেন, ‘সাংবাদিকের মারধরের ঘটনা সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এটা পুলিশের বড় ব্যর্থতা।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজলা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোস্তাক বলেন, ‘আমাদের তদন্ত এখনও চলছে। ভুক্তভোগীদের মেডিকেল সনদের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সনদ সংগ্রহের পরে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। তদন্ত শেষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি পুলিশ এখনও তদন্ত করছে। তবে আমাদের সিন্ডিকেটের বিষয়টির ডেট ঠিক করেছি। যদিও বন্ধের পরে ডাকব ভেবেছিলাম। তবে আগেই ডেকেছি যাতে যতদ্রুত সম্ভব এটা সুরাহা হয়। বাকি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আমি প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি।’

আরও পড়ুন

×