সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ
১৩ বিষয়ে শিক্ষক নেই, জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২২
রাজারহাট উপজেলার সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা। কলেজটিতে অনুমোদিত ৬০টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৭ জন। শূন্য থাকা ৩৩টি পদের মধ্যে ১৩টি বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই। ফলে এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই চলছে পাঠদান।
জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিকের পাশাপাশি কলেজটিতে ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের অনার্সের পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পর উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কৃষি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন। ফলে সাময়িকভাবে ক্লাস চালানো গেলেও বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। খণ্ডকালীন (অতিথি) শিক্ষক দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কলেজে রয়েছে তীব্র শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামোগত সংকট। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় একই সময়ে সব বিভাগের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। পুরোনো টিনশেড ভবনের বিভিন্ন অংশ জীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে ক্লাসরুমে পানি পড়ে, এতে ভিজে নষ্ট হয় বই-খাতা এবং ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট কলেজটি জাতীয়করণ করা হলেও দীর্ঘ আট বছরেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
কলেজটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাল মিয়া ও মাসুমা আক্তার নিজেদের দুর্ভোগ তুলে ধরে বলে, ‘ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় বর্ষায় পানি পড়ে আমাদের ক্লাস করতে খুব অসুবিধা হয়। এ ছাড়া অনেক বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় আমরা ঠিকমতো বিষয়ভিত্তিক পাঠদান পাচ্ছি না। আমরা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান মিনারা বেগম বলেন, ‘১৩টি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। বাধ্য হয়ে আমাদের অন্য বিষয়ের দিকে নজর দিতে হচ্ছে, যা বাস্তবে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।’
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক যাবের ইবনে হুদা বলেন, ‘আমি হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও বাধ্য হয়ে পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির ক্লাস নিচ্ছি।’
একই আক্ষেপ প্রকাশ করে দর্শন বিভাগের প্রধান তপতী রায় জানান, ছয়টি বিষয়ে অনার্স চালু থাকায় সেখানকার দায়িত্ব সামলাতেই শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন। ফলে ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের সব বিষয়ে সঠিকভাবে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না।
শিক্ষক নিয়োগ এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা ক্যাডার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজ।
শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৬০টি পদের বিপরীতে প্রেষণ ও পদায়ন মিলিয়ে ৩৩টি পদই শূন্য। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই বললেই চলে। এ ছাড়া কর্মচারী ও পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবনের তীব্র অভাব রয়েছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
- বিষয় :
- রাজারহাট