টানা ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা, বুকিং ৮০ শতাংশ
ছবি: সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১৯
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। এরই মধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটির হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকের বাড়তি চাপ সামলাতে আবাসন, খাবার ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়াকাটায় ছোট-বড় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের অধিকাংশ কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতেও গড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬ উপলক্ষেও হোটেলগুলোতে বুকিং শুরু হয়েছে। ছুটি ঘনিয়ে এলে বাকি কক্ষগুলোও পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ইতিমধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। ছোট-বড় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে একসঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি পর্যটকের চাপ সামলাতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়িও হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে আবাসনসংকট মোকাবিলায় সুবিধা হবে বলে আশা করছেন তারা।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবার দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন পর্যটকেরা। তাদের স্বাগত জানাতে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ফিশ ফ্রাই, আচার ও ঝিনুকসহ পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন। শতাধিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের পাশাপাশি অন্য খাতের আরও দুই শতাধিক শ্রমিককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
হোটেল বেস্ট সাউদার্নের পরিচালক জনি জানান, তাদের হোটেলের ৩১টি কক্ষ ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের জন্য শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অন্য দিনগুলোতেও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। এখনো অনেকে ফোন করছেন, কিন্তু কক্ষ খালি না থাকায় তাদের বুকিং দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন তালুকদার বলেন, আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলে মোট ২২টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে গড়ে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্য সময়ে তারা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিলেও এবার ছাড় দিচ্ছেন ১০ থেকে ২০ শতাংশ। দিনের বেশির ভাগ সময় জেনারেটর চালানো ও বিদ্যুতের বেশি দামের কারণে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, বছরের তিন থেকে চার মাসের পর্যটন মৌসুমের আয় দিয়েই তাদের সারা বছর চলতে হয়।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ও হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মো. রাসেল বলেন, বছরের যেসব সময়ে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকে, দুর্গাপূজার সময় তার অন্যতম। এ সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হোটেল-মোটেল মালিক ও পরিচালকদের ভাড়া না বাড়ানো এবং খাবারের মান ও দাম ঠিক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে।
তবে পর্যটন মৌসুম ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার পাশাপাশি অবকাঠামো নিয়ে হতাশাও রয়েছে। তাদের মতে, পর্যটন খাতে বিপুল বিনিয়োগ হলেও সৈকত, সড়ক, পরিচ্ছন্নতা ও যোগাযোগব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। কুয়াকাটার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি।