ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ছেঁউড়িয়ায় মাদক বিষয়ে এবার ‘জিরো টলারেন্স’

ছেঁউড়িয়ায় মাদক বিষয়ে এবার ‘জিরো টলারেন্স’
×
×

ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে দকমুক্ত লালন উৎসব করার জন্য পুলিশের অভিযান

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০২ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:০৫

ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনের অনুষ্ঠানমালা শুরু হচ্ছে ১৭ অক্টোবর। প্রতিবছর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে সমবেত হন দেশ-বিদেশের লাখো বাউল, সাধক ও লালনভক্ত। এবারের আয়োজনকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে গত রোববার অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আজ সোমবারও চলে এই অভিযান। মাদকের বিরুদ্ধে এবার প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ছেঁউড়িয়া এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সারাদেশের মানুষ মনে করেন, লালন মেলা মানেই মাদকের আড্ডা। প্রতিবারই দেখা যায়, আলোচনা মঞ্চের আশপাশে সারারাত মাদক সেবন ও কেনাবেচা চলে। আবার প্রশাসন তা পাহারা দেয়। এটা খুবই লজ্জাজনক। এবার লালনমেলায় যেন মাদক না থাকে।

আজ এক দর্শনার্থী বলেন, কিছুদিন পর লালনের উৎসব। তখন ব্যাপক ভিড় থাকে। গাঁজার গন্ধে থাকা যায় না। তাই উৎসবের আগেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তাঁর দাবি, যেখানে মঞ্চ তৈরি হচ্ছে, এর পাশেই অনেকে গাঁজা সেবন করছেন। পরে পুলিশ সদস্যদের জড়ো হতে দেখেছেন।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান উপলক্ষে সারাদেশ থেকে নানা বয়সী অসংখ্য ভক্ত আসেন। তাদের অনেকেই উন্মুক্ত মঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় ছোট ছোট দলে বসে মাদক সেবন করেন। আশপাশে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও থাকেন। তবে মাদক সেবনে কেউ বাধা দেন না। এতে সচেতন নাগরিক ও প্রকৃত বাউলসাধকরা ক্ষুব্ধ।

কয়েক দিন আগেই আখড়াবাড়ীতে এসেছেন শরীয়তপুরের এক প্রবীণ লালনভক্ত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘সাঁইজির জন্য মনডা খুব আনচান আনচান করছিল। তাই আত্মার একটু শান্তির জন্য কয়েক দিন আগেই এসে জায়গা জুড়েছি।’ 

তাঁর ভাষ্য, ‘গাঁজার সঙ্গে ফকির লালনের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত সাধুভক্তরা কখনোই মাদকের ওখানে (মেলার মাঠ) যান না। মাদকসেবীদের কারণে আমাদের সাধুসঙ্গ ব্যাহত হয়। আমরাও চাই মাদকমুক্ত অনুষ্ঠান হোক।’

এবার লালন উৎসব মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান চলছে বলে জানান কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, রোববার ডিবি, পুলিশ, এসআরবিসহ ৯৫ জনের একটি টিম যৌথ অভিযানে অংশ নেয়। আজও জেলা প্রশাসন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও থানার সমন্বয়ে ১৫-২০ জনের দল ছিল। তিনি লালনভক্তদের মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

লালন একাডেমির সভাপতি পদে থাকা জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, এবার মাদকমুক্ত লালন উৎসব করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×