জাবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ, উদ্ধারে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
উপাচার্যকে ৮ দফা দাবিতে স্মারকলিপি, বিভাগে তালা
শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম। ছবি-সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৫০
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজের ঘটনায় আট দফা দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তাঁকে উদ্ধারে ১২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে বিভাগের প্রধান ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার নিজ কক্ষে সুইসাইড নোট রেখে নিখোঁজ হন মোহাইমিনুল। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁর রেখে যাওয়া নোটে বিভাগের শিক্ষকদের ভূমিকা, আচরণ ও নিপীড়ন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগ, জিএস-৪০৪ কোর্সের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন, নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী বা ব্যাচকে লক্ষ্য করে হয়রানি বন্ধ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ছাত্রসংসদ বাস্তবায়ন এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান খান তুর্য বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়নি। প্রশাসন তাঁদের দাবিগুলো জেনে রেখেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংকটের মুহূর্তে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসাইন মো. সায়েম ও শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আবু সাদাত সায়েমকে তাঁরা পাশে পাননি। তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহমর্মিতা ও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা অনড়।
তুর্য আরও বলেন, নিখোঁজ সহপাঠীকে উদ্ধারসহ আট দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগ বন্ধ থাকবে।
এদিকে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসাইন মো. সায়েম তাঁর ভূমিকার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এক ছাত্রীর মাধ্যমে মোহাইমিনুলের সুইসাইড নোট রেখে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই তিনি পদক্ষেপ নেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবর নিতে বলেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি সভা আহ্বান করে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি।
বিশেষ পরীক্ষার বিষয়ে অধ্যাপক সায়েম বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও পরীক্ষাটি অনুমোদন করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো পরে খতিয়ে দেখা যাবে। এই মুহূর্তে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য মোহাইমিনুলকে সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের বিষয়টি জানার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় প্রক্টরিয়াল টিম আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সিম কার্ডের অবস্থান শনাক্তকরণ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার ও জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক বিশেষ অনুসন্ধানী দল গঠন করা হয়েছে। নিখোঁজের সুনির্দিষ্ট কারণ ও উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুষদের ডিনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
মোহাইমিনুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষে থাকতেন। গত রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাগামী বাসে ওঠার পর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়