প্রাথমিক শাখা আবার চালুর গুঞ্জনে বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৭ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রাথমিক বিদ্যালয় শাখা চালু না করার দাবি জানিয়ে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার দিনভর বিক্ষোভ করেছেন। এদিন সকাল থেকে তারা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। যদিও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পদে থাকা সহযোগী অধ্যাপক তপন সাহা জানিয়েছেন, এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালুর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গুজবের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এমনকি আন্দোলনকারীদের কয়েকজন অধ্যক্ষ তপন সাহাকে ঘিরে ধরে তাঁর সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচারণও করেন। এ সময় তারা স্থায়ী শিক্ষকদের আন্দোলনবিরোধী আখ্যা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অধ্যক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাদের বাদানুবাদ হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণি থেকে প্রাথমিক শাখা আবার চালু করা হবে এ খবর গত বৃহস্পতিবার ছড়িয়ে পড়ে। এদিন থেকে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় অ্যাসেম্বলির পরই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিন ইসলাম দাইয়ামের ভাষ্য, এ প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শাখা চালুর পাঁয়তারা চলছে। এটা করলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে। তারা এটা করতে দেবেন না।
অন্যদিকে প্রাথমিক শাখা চালুর দাবি জানান জুঁই আক্তার নামের এক অভিভাবক। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। কাদের ইন্ধনে প্রাথমিক শাখা বন্ধ করা হয়েছে সেটা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ তপন সাহা জানান, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ প্রধান অতিথি হয়েছিলেন। তখন তিনি অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর আহ্বান জানান। পরে কলেজ শাখার শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে নামেন।
এ প্রতিষ্ঠানে মাত্র পাঁচজন স্থায়ী শিক্ষক আছেন জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, অতিথি শিক্ষক দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক বিভাগ চালু করার মতো পর্যাপ্ত শিক্ষক তাঁর কাছে নেই।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার সমকালকে বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। প্রাথমিক শাখা চালুর কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ কিছুই হয়নি। কোন খবরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।