দুই থানার ঠেলাঠেলি, আসামি হস্তান্তরে বিপাকে এসআরবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনাস্থল নিয়ে চলছে দুই থানার ঠেলাঠেলি। এতে আটক অটোরিকশাচালক ইকরামুল হককে থানায় হস্তান্তর নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা।
গতকাল সোমবার দুপুরে ইকরামুলকে আটক করা হয়। তিনি জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তবে ঘটনাস্থল নিয়ে জেলার সদর দক্ষিণ থানা ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় তাঁকে হস্তান্তর নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসআরবি। দুই থানার ঠেলাঠেলিতে আটক ইকরামুল এখন এসআরবি হেফাজতে।
গতকাল বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানায়, গত শনিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন অটোরিকশাচালক মানসিক প্রতিবন্ধী একজন নারীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করছেন। ওই ভিডিও এসআরবি-১১ এর নজরে আসার পর অটোরিকশাচালককে আটক এবং ওই নারীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুক্তিখোলা এলাকা থেকে ইকরামুল হককে আটক করা হয়।
এসআরবি আরও জানায়, আটক ইকরামুল ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ
উপজেলার লালবাগ এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কলাবাগানে নিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারীকে তিনি ধর্ষণ করেন। পরে কলাবাগান থেকে বের হওয়ার সময় রাসেল নামক একজন অটোরিকশাচালক ইকরামুলকে দেখে মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। এ সময় ইকরামুল দোষ স্বীকার করেন। এরপর ইকরামুল আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনাস্থল নিয়ে দুই থানার দুই দাবি
ঘটনাস্থল নিয়ে জেলার সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক ইকরামুলকে কোনো থানায় হস্তান্তর এবং মামলা হয়নি।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যে স্থানটিতে ধর্ষণের ঘটনা দেখানো হয়েছে সেটি চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায়। তাই মামলা ও আসামি হস্তান্তর চৌদ্দগ্রাম থানায় হতে হবে। অন্যদিকে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. আরিফ হোছাইন বলেন, ঘটনাস্থলটি দুই থানার সীমান্তবর্তী, তবে স্থানটি সদর দক্ষিণ মডেল থানার অধিভুক্ত হওয়ায় মামলা ও আসামি হস্তান্তর ওই থানায় হওয়ার কথা।
এসআরবি-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল সোমবার দুপুরে আসামি আটকের পর হস্তান্তর নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ বলছে ঘটনাস্থলটি চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায়, অন্যদিকে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ বলছে ঘটনাস্থল সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকার আওতাধীন। তাই মামলা দায়ের ও আসামি হস্তান্তর নিয়ে জটিলতায় পড়েছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- আসামি