ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

১৮ বছর পেরিয়ে বেরোবি, মেগা প্রকল্পে বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন

১৮ বছর পেরিয়ে বেরোবি, মেগা প্রকল্পে বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন
×
×

 বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

আনন্দ-উচ্ছ্বাস, বর্ণিল স্মারক আয়োজন এবং নতুন অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে প্রাপ্তির খাতায় সীমাবদ্ধতা থাকলেও জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যাপীঠটিকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার নতুন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার সকালে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী পর্বের পর বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসে এক প্রীতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় চোখ ধাঁধানো আতশবাজির আয়োজন রাখা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দময় আবহের মাঝে নিজেদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অভাব-অভিযোগ ও নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, ১৮ বছর পার হলেও অবকাঠামোগত জায়গায় প্রাপ্তি খুবই কম। কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম না থাকা, লাইব্রেরিতে তীব্র বই সংকট এবং প্রকট শ্রেণিকক্ষ সংকট নিয়ে নিত্যদিন তাদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যেন শিক্ষার্থীদের এই মৌলিক সমস্যাগুলোর দিকে দ্রুত কার্যকর দৃষ্টি দেয়–প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমনটাই তাদের মূল দাবি।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার বিষয়ে আশার আলো জ্বালিয়ে আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকীকরণে আমাদের যে মাস্টারপ্ল্যান দেখানো হয়েছে, সেটি যদি একনেক সভায় পাস হয়ে যায়, তবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা চিত্র এক নিমেষেই বদলে যাবে।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর বর্তমান উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজাতে ১১০০ কোটি 
টাকার এক মেগা প্রকল্প প্রস্তুত করে জমা দিয়েছেন। অনেক পরিশ্রমের পর ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এটি অগ্রগতির পথে। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে বীর শহীদ আবু সাঈদের এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উত্তরবঙ্গ কিংবা বাংলাদেশেই নয়, গোটা পৃথিবীর বুকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত ও ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

আরও পড়ুন

×