ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যের দুই দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষা

চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যের দুই দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষা
×
×

ছবি: সংগৃহীত

চুয়েট সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১৬ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে তিনি একটি ভবনের ভেতরে আটকা রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ওই ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

ভবনের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কয়েকজন আটকা রয়েছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিজেকে একটি আলাদা কক্ষে রেখেছেন। ওই কক্ষে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছেন।

গণমাধ্যমকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে প্রথমে তিনি রাজি হননি। পরে নিজ কক্ষের দরজার সামনে থেকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটা তাদের ব্যাপার।’

দুই দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে না পেরে প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরে যান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে আবার চিকিৎসক দেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করলে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিনকে সেখানে নেওয়া হয়।

ডা. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ মেপে দেখেছেন। তখন দুটিই স্বাভাবিক ছিল। উপাচার্য তার কাছে বুকে ব্যথার কথা বলেননি এবং হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেননি।

পরে দুপুর দুইটার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে সেখানে গিয়ে উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরিমাপ করেন।

বুকে ব্যথা হচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে উপাচার্য চিকিৎসককে জানান, সকাল ১০টা থেকে তার বুকে ব্যথা ছিল। তবে ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে। এ সময় তিনি আরও জানান, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন না। কোন ওষুধ সেবন করেন, তা জানতে চাইলে নামটি মনে করতে পারেননি।

প্রথমে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৪০/১০০ মিলিমিটার পারদচাপ (মিমি পারদ) মাপা হয়েছে বলে জানা যায়। পরে ভবনের বাইরে এসে ডা. টিবলু কান্তি দে রক্তচাপ ১৫০/১০০ মিমি পারদ বলে জানান। একই সঙ্গে উপাচার্যের বুকে ব্যথা অনুভবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রক্তচাপের পরিমাপে ভিন্নতা
দুই দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবারও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। এ জন্য চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন এবং রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দেকে পুনরায় উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়।

দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার সময় দুই চিকিৎসকের পরিমাপেও রক্তচাপের কিছুটা পার্থক্য পাওয়া যায়। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উপাচার্যের ডান হাতে রক্তচাপ ১৪৫/১০০ মিমি পারদ মাপেন। অন্যদিকে, চুয়েটের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিন একই হাতে রক্তচাপ মাপেন ১৩৯/১০০ মিমি পারদ।

বাম হাতে রক্তচাপ মাপার ক্ষেত্রে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ১৩৫/১০০ মিমি পারদ পান। বিপরীতে, চুয়েটের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিনের পরিমাপে তা ছিল ১২০/৮০ মিমি পারদ।

আরও পড়ুন

×