ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুর মেডিকেল

২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়, সরঞ্জাম ক্রয়েও অনিয়ম

২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়, সরঞ্জাম ক্রয়েও অনিয়ম
×
×

ফাইল ছবি

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩:২০

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি চিকিৎসা যন্ত্র কেনায় প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে নয় বছর আগে ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হলেও তা চালু হয়নি। লিনিয়ার এক্সেলেটর যন্ত্রটিও এখনো বাক্সবন্দী।

এ ছাড়া চিকিৎসা সামগ্রী (এমএসআর) কেনায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে হাসপাতালে অভিযান শুরু করে দুদক। মঙ্গলবার রাত আটটায় অভিযান শেষ হয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের তথ্য জানান দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে দুদকের আট সদস্যের একটি দল এ অভিযানে অংশ নেয়।

দুদক কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগে অনিয়ম, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হাসপাতালের ক্যানসার ইউনিটের জন্য সাড়ে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের একটি লিনিয়ার এক্সেলেটর যন্ত্র কেনা হয়। তবে যন্ত্রটি এখনো বাক্সবন্দী। একই অর্থবছরে কার্ডিওলজি বিভাগের জন্য ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয়। কিন্তু এই যন্ত্রটিও চালু করা হয়নি। যন্ত্র দুটি চালু না করে ওই অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়।

দুদক কর্মকর্তা বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ না করেই লিনিয়ার এক্সেলেটর যন্ত্রটি কেনা হয়েছে এবং ক্যাথল্যাব চালু না করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএসআর কেনায় অনিয়মের তথ্য

হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী (এমএসআর) কেনার ক্ষেত্রে তথ্যের গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ফেব্রিক্স নামের একটি ওষুধের ৭৬২ বোতল ঘাটতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, হেক্সাটন নামের ওষুধের বোতল বেশি পাওয়া গেছে। বিষয়টি আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।’

এ ছাড়া হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ থাকার বিষয়েও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমএসআর কেনার কার্যাদেশে অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে ফিল্মও ছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দুদক জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই দুটি সামগ্রী সরবরাহ করেনি। সেগুলো বাদে অন্য সামগ্রীর বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা অধিকতর যাচাইয়ের জন্য রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।’

জমা হয়নি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ গত এক মাসে কোনো অর্থ সরকারি হিসাবে জমা হয়নি বলে অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছে দুদক। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পাঁচটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর মধ্যে দুটি নষ্ট এবং তিনটি চালু রয়েছে। তবে চালু থাকা অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভাড়ার টাকা জমা হয়নি। এ ঘটনায় অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানায় দুদক। এ ছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রতিটি নথিপত্র সংগ্রহ করেছি। নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে দায় নির্ধারণ করা হবে। এরপর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদক কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, ‘দুদক আমাদের কাছে যা যা চেয়েছে, সব তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছি। হাসপাতালের ওই দুটি মেশিন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার বিষয়ে দুদকের তথ্য সঠিক নয়। এমএসআর কেনায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’

আরও পড়ুন

×