ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
×
×

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর এলাকা থেকে মো. সাগর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে একটি পোশাক কারখানার অফিসে ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

গত রোববার ফতুল্লা থানার ইসদাইর এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাগর হোসেন (৩২)। ফতুল্লার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে সাগর পোশাক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাঁকে (সাগর) বিসিকে একটি অফিসের ভেতর ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। সেদিন রাতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার অরুণ হাওলাদারের ছেলে মো. রাইসান রোমান (৩২), মো. আতিক ও মাসদাইরের আবদুস সালামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে তাঁকে (সাগর) বিসিকের শাসনগাঁও এলাকার এম্প্যায়ার কটন নামে একটি কারখানার অফিসের ভেতর আটকে রাখে। সেখানে তাঁকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তারা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সেটি দিয়ে তাঁর দুবাইপ্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে তিন কোটি টাকা দাবি করে।
সাগর আরও বলেন, অপহরণের পর তাঁর বন্ধু উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি তৎপরতা শুরু করেন। বন্ধুর এই তৎপরতার বিষয় টের পেয়ে অভিযুক্তরা রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেয়। ছাড়ার আগে হুমকি দেওয়া হয়, তাদের দাবি করা টাকা না দিলে এবং এ বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাউকে জানালে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাইসার রোমানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করা হলে তিনি তাঁর অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। রোমান বলেন, ‘আপনি একটু কষ্ট করে অফিসে আসেন। সামনাসামনি কথা বলি। অনেক সময় অনেক কিছু ভুল হতে পারে আমার। সামনাসামনি কথা বলব।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহাবুব আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ওসি স্যার দেখছেন। তিনি পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেবেন।’
 

আরও পড়ুন

×