বিআইটিআইডির দরপত্রে সরকারি গেজেট উপেক্ষার অভিযোগ
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) সাতটি পণ্য ও সেবা ক্রয়ের দরপত্রের শর্তাবলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঠিকাদাররা। তাদের অভিযোগ, নতুন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনার উদ্যোগের পরও দরপত্রের শিডিউলে কিছু শর্ত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং নমুনা জমা দেওয়ার শর্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তারা।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকারি সিদ্ধান্ত ও গেজেট অনুযায়ী নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার কথা থাকলেও, তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি দপ্তরের এমন স্বেচ্ছাচারী শর্ত নির্ধারণ নতুন ব্যবসায়ীদের বিকাশকে ব্যাহত করছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা অবিলম্বে এই দরপত্র বাতিল করে গেজেট অনুযায়ী নতুন শিডিউল প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন।
দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি ও ই-জিপি পোর্টালের টেন্ডার ডেটা শিট (TDS/PDS) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি প্যাকেজে সরবরাহকারী হিসেবে ন্যূনতম তিন বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা, গত ১০ বছরের মধ্যে অন্তত একটি নির্দিষ্ট মূল্যের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সক্ষমতার শর্ত রয়েছে।
বিআইটিআইডির পরিচালক ৩ অক্টোবর ই-জিপি পোর্টালে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। আগামী ১৮ অক্টোবর দরপত্র জমাদানের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ওষুধ, মেডিকেল যন্ত্রপাতি, রিএজেন্ট, কেমিক্যাল রিএজেন্ট, খাদ্যসামগ্রী, স্টেশনারি এবং লিনেন সামগ্রী ধোলাইয়ের জন্য সাতটি প্যাকেজের উল্লেখ রয়েছে।
আর কে ওশান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাজমুল সুলতানা রুমা বলেন, যারা গত ১৪-১৫ বছর ধরে এককভাবে এ কাজ করে আসছেন, তাদের কাজ দেওয়ার জন্য শর্ত জুড়ে দিয়েছে বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোক্তা যাতে কাজ না পান, শিডিউলে তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঠিকাদারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে ছয় লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ৩৫ লাখ টাকা, খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে ৪৯ লাখ টাকা, এক্স-রে ফিল্ম, ইসিজি পেপার ও ডায়াগনস্টিক সামগ্রীর ক্ষেত্রে ৩৫ লাখ টাকা, কেমিক্যাল রিএজেন্টের ক্ষেত্রে ৩১ লাখ টাকা এবং ওষুধসামগ্রীর ক্ষেত্রে ২৮ লাখ টাকার অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্টেশনারি ও ওয়াশিং সেবার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অঙ্কের কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজাদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মোহাম্মদ কাসেম বলেন, শিডিউলে দরপত্র জমা দেওয়ার আগেই পণ্যসামগ্রীর নমুনা জমা দিতে বলা হয়েছে। তাদের মতে, একাধিক খাতে নমুনা প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার কারণে দরপত্রে অংশগ্রহণের আগেই অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। এতে ছোট ও নতুন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এ দরপত্রের কিছু শর্ত দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা প্রতিষ্ঠানকে তুলনামূলক সুবিধা দিতে পারে। এ ছাড়া দরপত্রে ঠিকাদারের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, ব্যাংকের প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষিত হিসাবসংক্রান্ত শর্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আরও সহজ করা উচিত। দরপত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ঠিকাদার মোহাম্মদ কাসেম।
এ বিষয়ে বিআইটিআইডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. ইফতেখার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দরপত্রের শর্তাবলি ও গেজেট লঙ্ঘনের বিষয়ে ঠিকাদাররা যদি লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ জানান, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ উত্তর বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- অভিযোগ