প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে নিজেরাই ‘চেয়ারম্যান’
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদে কোনো নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকার সুযোগে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, লিখিত অনুমোদন ছাড়া চেয়ারম্যানের নামীয় সিল ব্যবহার করে নাগরিকত্ব, ওয়ারিশান, জন্ম-মৃত্যুসনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি নথিতে স্বাক্ষর করছেন দুই ইউপি সদস্য।
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান তালুকদার নাদিম একাধিক মামলায় আত্মগোপনে যান। এরপর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া হোসনে আরা বেগমকে ইউপি সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে অপসারণ করা হয়। পরে তৎকালীন ক্ষেতলাল উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বদলিজনিত কারণে গত ২১ জুলাই নবযোগদানকৃত উপজেলা প্রকৌশলী এস এম রাজিব হোসেন আলমপুর ইউপির প্রশাসকের দায়িত্ব বুঝে নেন।
তবে প্রশাসকের মূল দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরো ইউনিয়নের ওয়ার্ড ভাগাভাগি করে নেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শাহিনুর রহমান ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু রাসেল খন্দকার। বর্তমানে শাহিনুর রহমান পাঁচটি এবং আবু রাসেল খন্দকার চারটি ওয়ার্ডের দাপ্তরিক ফাইলে চেয়ারম্যানের বিকল্প হিসেবে নিজেদের নামীয় সিল ও ‘প্রশাসকের নির্দেশে’ লেখা সিল মেরে সই করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই দুই ইউপি সদস্য সম্পূর্ণ ইউপির কাজ দুই ভাগে ভাগ করে যাবতীয় ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করছেন। ইউপির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর একটি ওয়ারিশান সনদে শাহিনুর রহমান এবং ২৭ আগস্ট একটি নাগরিক সনদে আবু রাসেল খন্দকার স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযুক্ত দুই ইউপি সদস্যের দাবি, পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে বদলি হয়ে যাওয়া সাবেক প্রশাসক তাদের এই দায়িত্ব মৌখিকভাবে দিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সেবা নিতে আসা জনগণের অভিযোগ, কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়া তারা সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এবং স্বঘোষিত ক্ষমতাবলে সরকারি সনদে স্বাক্ষর করে চলছেন।
এ বিষয়ে বর্তমান আলমপুর ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা প্রকৌশলী এস এম রাজিব হোসেন বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজের চাপে আমি নিয়মিত পরিষদে সময় দিতে পারি না, এটি সত্য। তবে কোনো নথিপত্রে সই করার জন্য আমি কোনো সদস্যকে লিখিত বা মৌখিক অনুমোদন দিইনি। আগের প্রশাসক কিছু করে থাকলে সেটি তাঁর বিষয়।’
অনুমোদন ছাড়া ইউপি সদস্যদের এই আচরণকে সম্পূর্ণ বেআইনি আখ্যা দিয়ে জয়পুরহাট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক যাদব সরকার জানান, প্রশাসক নিয়োগের এখতিয়ার কেবল জেলা প্রশাসনের। কোনো প্রশাসক চাইলেই নিজের দায়িত্ব অন্য কাউকে হস্তান্তরিত করতে পারেন না। আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যের এই অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- প্রশাসক