ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পানছড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইস চাষ

পানছড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইস চাষ
×
×

ছবি: সমকাল

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:১০

সবুজের বিস্তীর্ণ ধানের মাঠ। তার মধ্যে হঠাৎ চোখ আটকে যায় কালচে রঙের ধানের ছড়ায়। বাতাসে দুলতে থাকা কালো ধানের শিষ যেন সবুজের বুকে এক টুকরো ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য। খাগড়াছড়ির পানছড়িতে এবার এমনই নজরকাড়া ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের চাষ করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা এনামুল হক।

পানছড়ি উপজেলার গোলক প্রতিমাছড়ার ধানের মাঠে নিজস্ব ১২ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধানের চাষ করেছেন এনামুল। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পানছড়িতে এটাই প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষের উদ্যোগ।

ব্যতিক্রমী এই ধানের বীজ সংগ্রহ করতে এনামুল বগুড়া থেকে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে ধান কিনে আনেন। এরপর নিজস্ব জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। পরিচর্যার পর এখন গাছে গাছে বের হতে শুরু করেছে কালচে রঙের ধানের ছড়া। কোনো কোনো ছড়া বেশ বড় ও পরিপুষ্ট হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন।

উদ্যোক্তা এনামুল জানান, বাজারে ব্ল্যাক রাইসের চাহিদা ও দামও তুলনামূলক ভালো। প্রতি কেজি চাল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পাশাপাশি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কালো চালের আলাদা চাহিদা রয়েছে। পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফলন পেলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে ব্ল্যাক রাইস চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ১২ শতক জায়গায় আমি ব্ল্যাক রাইস চাষাবাদ করেছি। এ পরিমাণ জমিতে চার মণ ধান পাওয়া যেতে পারে।

সবুজের মধ্যে কালো ধানের এই ব্যতিক্রমী দোলা এখন শুধু দৃষ্টি কাড়ছে না, পানছড়ির কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তাও দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, পানছড়িতে ব্ল্যাক রাইসের চাষ হয়েছে যার ফলন ভালো হয়েছে। এটি একটি উচ্চ মানের পুষ্টি সম্পন্ন ধান। এটি সম্প্রসারণ হলে কৃষকরা অনেক বেশি লাভবান হবে এবং অনেক দাম পাবে। পানছড়িতে ব্ল্যাক রাইসের আবাদ সম্প্রসারণের জন্য কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নয়ন্টু চাকমা জানান, উদ্যোক্তা এনামুল অন্য জেলা থেকে বীজ এনে ব্লাক রাইস চাষ করেছেন। এটা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ব্রি কর্তৃক উৎপাদিত একটি নতুন জাত।

এই জাতের ধান চাষাবাদ করতে পারলে কৃষকরাও লাভবান হবে। এটা খুব উচ্চ মূল্যের ফসল। ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হয়।

আরও পড়ুন

×