ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
×
×

মো. মজিবুর রহমান

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:১৯

বরিশালের বানারীপাড়ায় মারধর, অবৈধভাবে আটক ও শিশুসন্তানকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের ফকিরবাড়ির বাসিন্দা জালিছ মাহমুদ আদালতে মামলার আবেদন করলে বিচারক তা গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। মামলায় বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদকে এজাহারভুক্ত এবং চার‑পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে অজ্ঞানামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, বাদী তার স্ত্রী পপি আক্তারকে তালাক দিলে পপি তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সিআর ৪২৩/২০২৫ মামলা দায়ের করেন। উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহরসহ সব টাকা পরিশোধ করলে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে খালাস পান। বাদী জালিছ মাহমুদ ও তার সাবেক স্ত্রী পপি আক্তারের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। পপি আক্তার তালাকের পরে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে শিশু কন্যা সন্তানটি মামলার বাদী বাবার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল। গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে মামলার প্রধান আসামি ওসির নির্দেশে ২ নম্বর আসামি থানার উপপরিদর্শক মো. জাহিদ চার‑পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিয়ে বাদী জালিছ মাহমুদকে আটক করতে গিয়ে তাকে গ্রামের বাড়ির সামনের রাস্তায় পেয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্য আসামি পুলিশ সদস্যরা বাদীকে কিলঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন।

এ সময় বাদীর বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে তাকে জোরপূর্বক আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আরজিতে অভিযোগ করা হয় বাদী তার নাবালিকা কন্যাসন্তানের আইনানুগ অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এবং থানায় দীর্ঘসময় আটকে রেখে ওসির নির্দেশনায় শিশুকন্যাকে সাবেক স্ত্রীর জিম্মায় দেওয়া হয়। পরে বাদী থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় আইনগত অধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করা হয়েছে।

মামলায় আনীত এসব অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, দুই বছর আট মাস বয়সী কন্যাসন্তানটি খুব অসুস্থ। তার মাতৃস্নেহে সুস্থ হওয়া প্রয়োজন। তাই শিশুটিকে চিকিৎসা করিয়ে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×