ইউএনও অফিসের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৬:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোক্তা এনায়েত পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্পের আড়াই লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাৎ ও কার্যালয়টিতে ঘুষ লেনদেনের মধ্যস্থতা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হওয়ায় ও পাউবোর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে তাহিরপুর ইউএনও অফিসে উদ্যোক্তা হিসেবে যোগ দেন এনায়েত। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কার্যালয়টিতে কর্মরত থাকায় তিনি একাধিক ইউএনওর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে যেসব কর্মকর্তা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের পক্ষে অর্থ আদায় ও ঘুষের মধ্যস্থতা করতেন এই এনায়েত।
এ ছাড়া সম্প্রতি হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের আনুষঙ্গিক বিল বাবদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুই লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকার একটি বেয়ারার চেক ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সংশোধিত ‘কাবিটা নীতিমালা ২০২৩’ এর আওতায় ওই এক শতাংশ আনুষঙ্গিক বিলের চেকটি প্রস্তুত করা হয়। কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন চেকের প্রাথমিক স্বাক্ষর শেষে সেটি সভাপতির (ইউএনও) স্বাক্ষরের জন্য পাঠান। স্বাক্ষরের পর চেকটি অফিস সহকারী বিশ্বজিৎ সূত্রধরের কাছে জমা রাখার কথা থাকলেও পরে সেটি ব্যাংক বিবরণীতে জমা দেখায়নি। এরপর গত ৬ অক্টোবর কাবিটা হিসাব বিবরণী তুলে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে সোনালী ব্যাংকের তাহিরপুর শাখা থেকে টাকা আগেই তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর পাউবোর শাখা কর্মকর্তা মনির হোসেন সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, ‘ব্যাংক ম্যানেজার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন টাকাটি এনায়েত পাটোয়ারীই তুলেছেন। বিষয়টি বর্তমান ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনায়েত পাটোয়ারী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাঁর নামে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। প্রকৌশলী নিজে এই ঝামেলা এড়াতে তাঁর নাম ব্যবহার করছেন। তাঁর কোনো অবৈধ সম্পদ নেই, এসব অপপ্রচার।