দর বৃদ্ধির দাবি ঠিকাদারদের টেন্ডার বয়কটের ঘোষণা
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়ন কাজের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা ঠিকাদার সমিতি। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা ঠিকাদার সমিতির নেতারা এক বৈঠকে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি দর সংশোধনের দাবিতে টেন্ডার বয়কটের এই সিদ্ধান্ত নেন।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, ২০২২ সালে নির্ধারিত সরকারি রেট শিডিউল অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রীর দর বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম। ফলে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া ঠিকাদারদের অতিরিক্ত দামে উপকরণ কিনতে হচ্ছে। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে দ্রুত নতুন দর পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় না করলে, তারা আগামীতে কোনো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
জানা গেছে, আগামী ১৮ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা জেলায় সংস্কারকাজের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করেছে এলজিইডি। কিন্তু সরকারি শিডিউল দর ও বর্তমান বাজারদরের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকায় ঠিকাদারদের এতে অংশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ঠিকাদার মো. জাকাউল্লাহর ভাষ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি টন রডের দাম ৭০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৮৪ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে টনপ্রতি বিটুমিন ৭০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ১৮ হাজার টাকা, হাফ ইঞ্চি পাথর প্রতি সিএফটি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা, প্রতি ট্রাক ইট ২০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা, বস্তাপ্রতি সিমেন্ট ৪৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার ডিজেল ১০১ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৭ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরিও ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা হয়েছে। দাম এভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের সরকারি রেট অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়া একেবারে অসম্ভব।
জীবননগর উপজেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম জানান, সরকার ২০২২ সালে সর্বশেষ ঠিকাদারি উপকরণের বাজারদর নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এভাবে চলতে থাকলে ঠিকাদারদের ব্যবসা গুটিয়ে পথে বসতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুজ্জামান জানান, দরপত্র মূলত অনুমোদিত রেট শিডিউল অনুযায়ীই আহ্বান করা হয়। এতে স্থানীয়ভাবে আমাদের বিশেষ কিছু করার থাকে না।
- বিষয় :
- টেন্ডার