কাজ অর্ধেক করে দুই-তৃতীয়াংশ বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার
ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন দিয়ে হাঁটছেন জনসাধারণ। গত মঙ্গলবার বগুড়ার রাজাবাজারে সমকাল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়ায় রেললাইনের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নালা নির্মাণকাজ শেষ না করেই দুই-তৃতীয়াংশ বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ওই কাজের মাত্র অর্ধেক শেষ হয়েছে। নালা নির্মাণের জন্য জমি খুঁড়ে রাখায় রেললাইনের পাশের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে জনসাধারণকে। তাদের অভিযোগ, বিল তুলে নেওয়ার সঙ্গে রেলওয়ের স্থানীয় এক প্রকৌশলী জড়িত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় রেললাইনের ১ নম্বর ঘুণ্টি থেকে করতোয়া রেলসেতু পর্যন্ত লাইনের দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী ও রেললাইন শুকনো রাখার জন্য নালা নির্মাণে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল কার্যাদেশ পায় বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজ। ১৭০০ বর্গমিটার কাজের জন্য খরচ ধরা হয় ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯৯১ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করতে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। সে হিসাবে গত বছরের ১৭ অক্টোবর সময় শেষ হয়েছে।
প্রকল্পটির অর্ধেক কাজ করেই চলতি বছরের মার্চে ৪২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজ, যা মোট খরচের দুই-তৃতীয়াংশ। এর পর থেকে ঠিকাদারের কোনো লোক সেখানে আসছেন না। এলাকাবাসী কাজের শুরু থেকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের এক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। নালার জন্য মাটি খুঁড়ে রাখায় যে কোনো সময় রেললাইন দেবে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করেন তারা।
বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ার বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, রেললাইনের নিরাপত্তার জন্য বেষ্টনী ও নালা নির্মাণের কাজে খুব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এতে এলাকাবাসীকে চলাচলের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, তারা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নালার জন্য মাটি খুঁড়ে রাখা জায়গায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি ঢাকনা ফেলে রেখেছেন। এর ওপর দিয়ে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তবে যে কোনো সময় রেললাইন দেবে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রুবেল আহম্মেদের ভাষ্য, তিনি অন্য একটি সাইডে কাজ করায় বগুড়ার কাজটিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করবেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারের সঙ্গে রেলওয়ের স্থানীয় উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম আলীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এ কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই টাকা তুলেছেন। এমনকি তিনি নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন প্রকৌশলী আসলাম আলী। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বলেছি। ঠিকাদার কাজ করার জন্য অচিরেই আসবেন।’ বিল তুলে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর দাবি, তারা যে পরিমাণ কাজ করেছে, সে পরিমাণ টাকা তুলেছে।
রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন, ঠিকাদার সময়মতো
কাজ না করায় রেললাইনের ওই অংশটুকু ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগদা দিয়েছেন।
- বিষয় :
- ঠিকাদার