ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণে জলাবদ্ধতার কবলে কৃষিজমি

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণে জলাবদ্ধতার কবলে কৃষিজমি
×
×

স্থাপনা নির্মাণের কারণে ত্রিশাল-ধুরধুরিয়া সড়কের একটি কালভার্ট বন্ধ হওয়ায় প্রায় ২০০ একর কৃষিজমি জলাবদ্ধতার কবলে। গত মঙ্গলবার তোলা সমকাল

মতিউর রহমান সেলিম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু ভারী বর্ষণেই বিলে জমতো পানি। এরপর খাল দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়ে যেত। ফলে বর্ষা ও শীত দুই মৌসুমেই বিল ও বিলপারে ধানসহ নানা জাতের ফসলের চাষ করে ফলন ঘরে তুলতে পারতেন কৃষকরা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না রাখায় তিন বছর ধরে প্রায় ২০০ একর জমির চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ত্রিশাল পৌরসভাও। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা গেছে, বহুকাল আগে থেকেই ত্রিশাল পৌরশহরের নওধার ভাটিপাড়া গ্রামের মইনর বিল, চরপাড়া, নামাপাড়া ও চিকনা গ্রামের একাংশের বৃষ্টির পানি নামতো শুকনি বিলে। এই বিলের বড় কুঁড়ি ও ছোট কুঁড়ির পানি শুকনি খাল বেয়ে ডেপ্পাকুঁড়ি বিল হয়ে নামে সুতিয়া নদীতে। ২০২২ সালের দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপাশ দিয়ে শুকনি বিলের জমি অধিগ্রহণ করে। ২০২৩ সালে মাটি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ত্রিশাল-ধুরধুরিয়া সড়কের একটি কালভার্ট বন্ধ হয়ে যায়। এই কালভার্টের ভেতর দিয়েই নওধার ভাটিপাড়া গ্রামের মইনর বিল ও শুকনি বিলের পানি নিষ্কাশন হতো। স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ২০০ একর জমির চাষাবাদের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই পানি নিষ্কাশন পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরকে দোষারোপ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কালভার্টে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে ২০২৩ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ২০০ একর কৃষি জমিতে বোরো ও আমন ধান চাষ। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় কৃষকরা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসলেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রকৃতির পালাবদলে বর্ষা পেরিয়ে শুকনো মৌসুম এলেও জলাবদ্ধতার কারণে এখনও মইনর বিল ও শুকনি বিল পারের বাসিন্দাদের বাড়ির আঙিনার কাছে জমে আছে পানি। বর্ষার শেষ দিকে কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপণ করলেও দীর্ঘসময় ক্ষেতে পানি জমে থাকায় চারাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শুকনি বিল ও কুমুরী বিল কচুরিপনায় নিমজ্জিত হয়ে আছে।
শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, মোস্তাক আহমেদ, মনির হোসেনসহ স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বর্ষাকাল তো দূরের কথা শুকনো মৌসুমেও প্রায় ২০০ একর জমিতে কোনো ফসল চাষ করতে পারেন না তারা।      
কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘২০০ শতাংশ জমির মধ্যে ৮০-৮৫ জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ক্ষেতে পানি জমে থাকায় ভালো ফলন আশা করা যাচ্ছে না। বাকি জমিতে পানির কারণে চাষাবাদ করতে পারিনি। আগে শুকনো মৌসুমে বিলের পানি নেমে গেলে অন্তত ১০০ একর জমিতে মরিচ, রসুন ও শীতকালীন নানা 
জাতের সবজি চাষ করতাম, এখন পানির জন্য করতে পারি না।’

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসাইনের ভাষ্য, কয়েক মাস হলো তিনি যোগদান করেছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে স্থাপনা নির্মাণকাজ শেষ। রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ শুরু করেছেন তারা। যদি পানি নিষ্কাশনে সমস্যাই হয়, এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য তাদের ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ করে দেবেন। বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি মনে করেন কৃষকদের সমস্যা সমাধানে এই ব্যাপারে পৌরসভাও উদ্যোগ নিতে পারে।
ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক হাসনাত জাহান খান বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। সমস্যা সমাধানে পৌরসভার কোনো একটা প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আরও পড়ুন

×