তোপের মুখে মানহীন সামগ্রী তুলে নিতে বাধ্য ঠিকাদার
কালাই উপজেলায় আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তর ভাবকি গুচ্ছগ্রাম সড়কে আগের খোয়া তুলে ভালোমানের সামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ চলছে সমকাল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
কালাই উপজেলায় সড়ক নির্মাণে হাতের চাপেই ভেঙে যাওয়া নিম্নমানের খোয়া ও মাটি-রাবিশ অপসারণ করে ভালো মানের সামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের তদারকি বৃদ্ধি ও ওপর মহলের নজরদারিতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তর ভাবকি গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত ১ হাজার ২৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক পিচ ঢালাইয়ের কাজের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই কাজটি জয়পুরহাটের ‘রাবা কনস্ট্রাকশন’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হলেও মূলত ক্রয়সূত্রে সাব-ঠিকাদার জাহেদ হাসান কাজটি বাস্তবায়ন করছিলেন।
শুরু থেকে সড়কটির ইটের বেড প্রস্তুত করতে নিম্নমানের গুঁড়ো খোয়া, কাদা ও রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা বারবার ক্ষোভ ও লিখিত প্রতিবাদ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরবর্তীকালে এ বিষয়ে গত ৩ অক্টোবর দৈনিক সমকালে ‘বালুতে মেশানো হচ্ছে রাবিশ ও মাটি, হাতেই ভাঙছে খোয়া’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরেই টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।
উত্তর ভাবকি গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও গিয়াস উদ্দিন জানান, সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার স্থান পরিদর্শন করেন। গত দুই দিন ধরে ঠিকাদারের লোকেরা পেছনের খারাপ খোয়াগুলো তুলে নিয়ে মানসম্মত সামগ্রী ফেলে রোলার দিয়ে সমান করা শুরু করেছেন। বর্তমানে কাজ বেশ তদারকির সঙ্গেই সম্পন্ন হচ্ছে।
কাজের গাফিলতি ও লোকসানের কথা স্বীকার করে সাব-ঠিকাদার জাহেদ হাসান বলেন, ‘শ্রমিকদের দিয়ে কাজ তদারকি করতে গিয়ে আমাকে খেসারত দিতে হচ্ছে। সম্পূর্ণ সড়কের খারাপ খোয়া তুলে ফেলে ভালো মানের সামগ্রী দিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করা হয়েছে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাবা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাইয়ুম জানান, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সাব-ঠিকাদারকে কঠোরভাবে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ জানান, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় কাজ পরিদর্শন করে দিকনির্দেশনা দেন। ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হলে তাঁরা অনতিবিলম্বে খারাপ সামগ্রী সরিয়ে নেন। বর্তমানে কাজটি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট মান নিশ্চিত করেই পুরো সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।’
- বিষয় :
- ঠিকাদার