ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া

কমিটি ও কার্যালয় নেই, বিএনপিতে সবাই নেতা

কমিটি ও কার্যালয় নেই, বিএনপিতে সবাই নেতা
×
×

এম এ এরশাদ, ডুমুরিয়া (খুলনা)

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির কমিটি ও দলীয় কার্যালয় নেই প্রায় এক যুগ। এ সময়ে কিছুদিন চলেছিল শুধু আহ্বায়ক আর সদস্য সচিব দিয়ে। সেটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের আগে। কমিটি না থাকায় দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলার ঘটনা বাড়ছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে চেইন অব কমান্ড। কেউ কারও তোয়াক্কা করছেন না। অবস্থা এমন, যেন সবাই নেতা। 

জানা গেছে, ২০১৫ সালে পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছিল। এরপর দুই দফায় আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২২ মার্চ মোল্লা মোশাররাফ হোসেন মফিজ আহ্বায়ক ও সরদার আব্দুল মালেককে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা বিএনপি। এরপর থেকে এই কমিটির সঙ্গে শেখ হাফিজুর রহমান ও গাজী আব্দুল হালিমের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দলীয় বিশৃঙ্খলা রুখতে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু।  

স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমিটি না থাকলেও বিএনপির সাবেক নেতাদের কারও কারও ব্যক্তিগত অফিস রয়েছে। সেখানে পৃথক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে দলীয় কার্যক্রম। এর মধ্যে প্রধান ধারাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সভাপতি মোল্লা মোশাররাফ হোসেন মফিজ ও সদস্য সচিব সরদার আব্দুল মালেক। আরেকটি কার্যালয় চলছে শেখ হাফিজুর রহমান ও গাজী আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে। নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমেও কোনো গতি নেই। দলীয় কার্যালয় না থাকায় দলের বড় কোনো কর্মসূচি থাকলে উপজেলা সরকারি অডিটোরিয়ামে বসেন সাবেক নেতারা। 

তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, খুলনা জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা ডুমুরিয়া। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাড়া অন্যান্য কর্মসূচি ও কার্যক্রম সেভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এজন্য দ্রুত বিএনপির কমিটি দেওয়ার দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলায় একটি দলীয় কার্যালয় ছিল। কোন্দলের কারণে সেখানে তেমন কেউ যায় না। এখন যে যার মতো, তাদের অনুসারীদের নিয়ে ব্যক্তিগত অফিসে বসেন। বেশির ভাগ দলীয় কর্মসূচি উপজেলা সরকারি অডিটোরিয়ামে বসে ঘোষণা করা হয়। 

মাগুরখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অরুণ গোলদার বলেন, উপজেলা বিএনপির কমিটি ও কার্যালয় না থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। দলের মধ্যে এতটাই গ্রুপিং যে, এক নেতার কাছে গেলে, অপর চার নেতা ক্ষুব্ধ হন। এখন তারা যাবে কোথায়?

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোল্লা আবুল কাশেম বলেন, উপজেলা কমিটি না থাকায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বেশির ভাগ নেতা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইউএনও, ভূমি অফিস, থানা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালালি, এবং সরকারি জমি-খাল দখলের অভিযোগ উঠছে। এতে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। 

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, ডুমুরিয়ায় দলীয় কোন্দলের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। উপজেলা কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই এ বিষয়ে জেলা কমিটি দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। 

আরও পড়ুন

×