মন্ত্রীকে নিয়ে পোস্ট
থানায় হাজিরার ১১ ঘণ্টা পর মুক্ত ব্যবসায়ী
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি আরিফুল হক চৌধুরীর ছবিসহ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার কারণে জুবায়ের আহমদ নামে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের এক পাথর ব্যবসায়ীকে ১১ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপি নেতাদের নির্দেশে তিনি থানায় হাজির হওয়ার পর তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় সিলেটে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রীকে খুশি করতে বিএনপি নেতারা উৎসাহী হয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যান।
গত ৮ অক্টোবর রাতে জুবায়ের আহমদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর তিনটি ছবি পোস্ট করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ১২ তারিখ নির্বাচনের পরে ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।
জুবায়ের আহমদ বলেন, তাঁর ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর ও সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুলকে কল দিয়ে বলেন– বিষয়টা গোয়েন্দাদের কাছে চলে যাচ্ছে। সমাধানের জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে আসেন। বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি নিজে থানায় যান। সেখানে বিএনপি নেতা আলী আকবর ও শওকত আলী বাবুল উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, থানায় যাওয়ার পর তাঁকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ রাখা হয়। রাত ১২টার দিকে শওকত আলী বাবুল ও বিএনপি নেতা লাল মিয়ার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ায় হয়।
জুবায়ের আরও জানান থানায় যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উসমান গনি জানান, জুবায়ের আহমদের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তিনি নিজে থানায় হাজির হন। সব যাচাই-বাছাই করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ারা জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কোনো স্ট্যাটাস পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা শওকত আলী বাবুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- মুক্তি