জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব
খুলনা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
ছবি- সমকাল
যশোর অফিস
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪৩ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪৬
যুক্তি ও পাল্টা যুক্তিতে জমে উঠেছিল বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের ফাইনাল। বিতার্কিকদের যুক্তি উপস্থাপন ও খণ্ডন আর দর্শকদের করতালিতে মুখর ছিল পুরো আয়োজন। শেষ পর্যন্ত বিচারকদের দেওয়া মাত্র এক নম্বরের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। রানার্সআপ হয়েছে মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন রানার্সআপ দলের দলনেতা আদ্র দে। তার দলের অন্য দুই বিতার্কিক সৈয়দ মাহদী হুসাইন ও শাদমান শাকিব খান। চ্যাম্পিয়ন দলের বিতার্কিকরা হলেন ইফফাত জামান রায়া, অয়ন্তিকা দে দেবলীনা ও তানিশা ইসলকাম রুপন্তি।
বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) ও সমকাল। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।
‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’ প্রতিপাদ্যে সকাল ৯টায় শুরু হয় উৎসব। এর আগেই খুলনা বিভাগের নয় জেলার চ্যাম্পিয়ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে চলে প্রস্তুতি। নির্ধারিত বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন ও পাল্টা যুক্তি খণ্ডনের মধ্য দিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলে বিতর্ক। প্রতিটি দলই জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র। শেষ পর্যন্ত এক নম্বরের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা জেতে যশোরের দল।
অংশগ্রহণকারী অন্য দলগুলো হলো খুলনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরপুরের গাংনী জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় এবং বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খান মাসুম বিল্লাহ, সমকালের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক মনিরুল ইসলাম এবং যশোর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলাউদ্দিন আল মামুন।
মানবাধিকারকর্মী ও ব্লাস্ট যশোরের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিযোগিতার বিচারক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সজল, শিশুসাহিত্যিক হাবিবুর রহমান মিলন, বিসিএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমান রিপন, মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বায়জিত মাহমুদ অভি, তাসনিমুল আলম এবং সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু-কিশোরদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার খবর উদ্বেগজনক। বিতর্কচর্চা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে ওঠে। এতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ কমতে পারে।
তিনি এ ধরনের আয়োজনের জন্য সমকাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিতর্ক করতে হলে জ্ঞানের নানা শাখায় বিচরণ করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটে, যা শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও বিতর্কচর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিতর্কে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি এর সৌন্দর্যও বেড়েছে। ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে বিতর্কের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পরীক্ষার খাতায় বিতর্কের নম্বর যোগ না হলেও জীবনের খাতায় এর নম্বর যোগ হবে।
সমকালের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, সমকাল শুধু সংবাদ প্রকাশ করে না, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকে এবং গুণীজনদের সম্মাননা জানায়। যুক্তিনির্ভর চর্চা ও মুক্তবুদ্ধির বিকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদুর রহমান জানান, খুব ভোরে যশোরে এসেছেন তিনি। বড় পরিসরের বিতর্ক উৎসবে শুরুতে কিছুটা নার্ভাস লাগলেও প্রতিযোগিতাস্থলে এসে অন্যদের দেখে ভালো লেগেছে।
অভিভাবক নুরনাহার বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আলোকিত ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সমকালের এ আয়োজন সেই চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টাইম মিডিয়া ভবনের সমকাল চত্বরে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে জেলা পর্যায়ের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো বিভাগীয় উৎসবে অংশ নিচ্ছে। এ প্রতিযোগিতায় ৬৪ জেলার ৫২০টি বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির প্রায় দুই হাজার বিতার্কিক অংশ নিচ্ছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে দেশসেরা ১৬টি দল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আসরে অংশ নেবে। চূড়ান্ত পর্বের বিতর্ক ও সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৩ ও ১৪ নভেম্বর।
- বিষয় :
- বিতর্ক উৎসব
- সমকাল