ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাজেক সড়কে দিনভর অবরোধ, সন্ধ্যায় স্থগিত

সাজেক সড়কে দিনভর অবরোধ, সন্ধ্যায় স্থগিত
×
×

ছবি: ফাইল

রাঙামাটি অফিস ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০৯ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:১৪

তিন দফা দাবির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তা প্রশাসন পূরণ না করায় রাঙামাটির সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা সড়ক অবরোধ প্রথম দিন শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। গত বুধবার সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। 

আজ বৃহস্পতিবার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। এদিন সন্ধ্যায় সংগঠন দুটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার জন্য আজ শুক্রবার থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। 

সাজেকের আশপাশের এলাকায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) ও প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে সংঘাত চলছে। এই ইস্যুতে সাজেক রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন চলতি সপ্তাহে জনসংহতির অবস্থান উচ্ছেদের দাবিতে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে ৪৮ ঘণ্টার সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ অক্টোবর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তী নির্দেশ না পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। পরবর্তীতে সাজেক রক্ষা কমিটির নেতা বিজয় কান্তি চাকমা বৃহস্পতিবার থেকে আবারও দীঘিনালা-সাজেক সড়কে ৪৮ ঘণ্টার সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। 

আজ সকাল থেকে সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন অবরোধকারীরা। এ সময় ওই রুটে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। দুপুরের পর থেকে পিকেটিং করতে সড়কে কাউকে দেখা যায়নি। 

সাজেক থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, সকালের দিকে সড়কে কিছু সংখ্যক অবরোধকারীদের দেখা গেছে। এদিন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাজেক এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিন সন্ধ্যায় সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার সই করা এক বিবৃতিতে অবরোধ ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতের কথা জানানো হয়।

পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাঙামাটি

শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছূটিতে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত পর্যটন শহর রাঙামাটি। ইতোমধ্যে শহরের হোটেল-মোটেলের শতকরা ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। তবে সাজেকের উদ্ভূত পরিস্থিতি ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

সাজেকের হিলভিউ রিসোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী ইন্দ্র চাকমা জানান, এবার পূজার ছুটিতে তাঁর রিসোর্টে ১৫ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সব কক্ষই বুকিং করা ছিলো। কিন্তু সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িক বন্ধের ঘোষণায় অর্ধেকের বেশি কক্ষের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। তাই এবার বড় ধরনের আার্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।

সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ন দেববর্মন বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটিতে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্ষন্ত সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজের শতভাগ কক্ষ বুক করা ছিলো। সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণার কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন সাজেক পর্যটন কেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেবে বলে আশা করছেন। 

রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শহরের ৫৫টি আবাসিক হোটেলের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কক্ষ বুকড। আশা করছি শতভাগ বুকড হবে।’

রাঙামাটি সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্সের ৮০ শতাংশ কক্ষ বুক করা হয়েছে বলে জানান ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা। তিনি বলেন, ছুটিতে রাঙামাটি হলিডে পর্যটন কেন্দ্রে ইতোমধ্যে পর্যটকদের বরণে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে শত ভাগ রুম বুকড হবে বলে আশা করছেন। 

ট্যুরিস্ট পুলিশের রাঙামাটি জোনের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, লম্বা ছুটিতে রাঙামাটিতে পর্যটকেরা আসবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশে নিয়মিত টহল দেবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তাদের মোতায়েন থাকবে। পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভ্রমণ শেষে ঘরে ফেরত যেতে পারবেন বলে আশা করছেন।

আরও পড়ুন

×