ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

হরিরামপুর থানার অস্ত্রাগার থেকে পিস্তল-ম্যাগাজিন উধাও, তদন্ত কমিটি

হরিরামপুর থানার অস্ত্রাগার থেকে পিস্তল-ম্যাগাজিন উধাও, তদন্ত কমিটি
×
×

ছবি: ফাইল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:০১

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার অস্ত্রাগার থেকে একটি পিস্তল (নাইন এমএম) ও একটি ম্যাগাজিন উধাও হয়েছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যোগদানের মাত্র ১২ দিনের মাথায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়েছে। থানার আগের ওসির দাবি তিনি সবকিছু বর্তমান ওসিকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান ওসির দাবি কাগজে কলমে দায়িত্ব বুঝে নিলেও অস্ত্র গণনার সময় একটি পিস্তল (নাইন এমএম) ও একটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি। গত ৩ অক্টোবর বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েও অস্ত্র ও ম্যাগাজিনের হদিস মেলেনি থানায়। পরে গত ৫ অক্টোবর ওসি নিজেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান ও ঘটনা খতিয়ে দেখতে পুলিশ সুপার তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে ভিআইপি ডিউটির জন্য হরিরামপুর থানা থেকে নাইন এম এম পিস্তলটি নিয়ে টাঙ্গাইল জেলায় যান এএসআই আবুল বাশার। সেখানে অবস্থানকালে তার শ্বশুরের মৃত্যু হলে তিনি অস্ত্রটি সরাসরি অস্ত্রাগারে জমা না দিয়ে এসআই জয়নাল আবেদীনের কাছে বুঝিয়ে দেন। পরদিন টাঙ্গাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের জন্য পিস্তলটি ব্যবহার করেন এসআই জয়নাল আবেদীন। ডিউটি শেষে তিনি সরাসরি নিজের বাড়িতে চলে যান। যাওয়ার সময় অস্ত্রটি সঙ্গে থাকা কনস্টেবল হারুন অর রশিদের কাছে বুঝিয়ে দেন। পরে কনস্টেবল হারুন টাঙ্গাইল থেকে হরিরামপুর থানায় ফিরে পিস্তলটি অস্ত্রাগারে জমা দেন। কিন্তু অস্ত্রটি থানায় জমা দেওয়ার পর সেটি আর কোনো ডিউটির জন্য ইস্যু করা হয়নি বলে ইস্যু-জমা রেজিস্টারে উল্লেখ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিখোঁজ পিস্তলটি এর আগে একাধিক পুলিশ সদস্যের হাতবদল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একপর্যায়ে অস্ত্রটি সরাসরি অস্ত্রাগারে জমা না দিয়ে একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আরেক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে সেটি থানায় ফেরত পাঠানো হয়। অস্ত্র ইস্যু ও জমা-সংক্রান্ত রেজিস্টারে পিস্তলটি জমা দেখানো হলেও বাস্তবে সেটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে অস্ত্রটি কোথায় এবং কীভাবে নিখোঁজ হলো, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থানার নতুন ওসি জে এম তৌফিক আজম দায়িত্ব গ্রহণের সময় নথিপত্র অনুযায়ী অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব বুঝে নেন। থানায় সংরক্ষিত ১০টি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন ও ১০০ রাউন্ড গুলি বুঝে নেওয়ার তথ্য ছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন পর বাস্তবে অস্ত্রের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে একটি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি। এরপর কয়েক দফা খোঁজাখুঁজি করেও সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অস্ত্রাগারের দায়িত্বে থাকা এসআই এমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্রাগারের দায়িত্বে থাকলেও অস্ত্র ইস্যু ও জমা নেওয়ার কাজটি মূলত কনস্টেবল আবুল কালাম করেন।

এসআই জয়নাল আবেদীন বলেন, টাঙ্গাইলে ডিউটি শেষে কনস্টেবল হারুন অর রশিদের কাছে অস্ত্রটি দিয়ে তাঁকে থানায় জমা দিতে বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, কনস্টেবল হারুন পিস্তলটি থানায় জমা দিয়েছেন।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) জে এম তৌফিক আজম সমকালকে বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর ‘আমি থানার চার্জ গ্রহণের সময় খাতায়-কলমে সবকিছু বুঝে নিয়েছি। কিন্তু বাস্তবে অস্ত্রগুলো বুঝে নেওয়া হয়নি। কয়েক দিন পর সরেজমিনে অস্ত্রের হিসাব করতে গিয়ে একটি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সেগুলো পাওয়া যায়নি। অস্ত্রগারে দায়িত্বে থাকা এস আই এমদাদ হোসেন এব্যাপারে কিছু বলতে পারেনি। গত ৫ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।

এদিকে হরিরামপুর থানার সাবেক ওসি (বর্তমানে নরসিংদী পুলিশ লাইনে আরআই হিসাবে কর্মরত) আফজাল হোসাইন জানান, আমি ২২ সেপ্টেম্বর হরিরামপুর থানা থেকে চার্জ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় অফিসিয়ালি অস্ত্রসহ গোলাবারুদ হস্তান্তর করেছি। যার একটি কপি আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া ওই অস্ত্রটি জুন মাসে টাংগাইলে ভিআইপি ডিউটিতে ব্যবহার হওয়ার পর থানায় জমা হয়েছে। এরপর পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি থানা পরিদর্শন করেছেন। তখন যদি অস্ত্রটি না থাকতো তাহলে ওই সময়ই বিষয়টি ধরা পড়তো। যেহেতু বর্তমান ওসির কাছে সব কিছু বুঝিয়ে দিয়েছি তাই অস্ত্র খোয়া যাওয়ার দায় আমার নেই।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মহরম আলী বলেন, হরিরামপুর থানার অস্ত্রাগার থেকে পিস্তল ও ম্যাগাজিন হারানোর ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (প্রশাসন) প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×