মামলা তুলে নিতে হুমকি, যুবদলের চার নেতাকর্মী কারাগারে
সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩:৫৩
সোনাগাজীতে শিশুর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে করা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটানায় গত বুধবার আসামিরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজ উদ্দিন তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন– আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক শাহীন, যুবদল কর্মী বেলাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও মো. শান্ত। তারা সবাই সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ মার্চ রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজি রহিম উল্যাহর ছোট ভাই হাজি সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল চাঁদার দাবিতে হানা দেয়। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আড়াই মাস বয়সী এক শিশুর গলায় রামদা ও পিস্তল ঠেকিয়ে স্বজনদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। যাওয়ার সময় তারা ঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় ৪ মার্চ সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ২৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে গত ২৯ জুন তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। দুই সপ্তাহ কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে অভিযুক্তরা বাদী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানান, নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বাদিপক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, জামিনে থাকা আসামিরা মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিল করে ওই চারজনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।