ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুর নার্সিং কলেজে কমপ্লিট শাটডাউন

জামালপুর নার্সিং কলেজে কমপ্লিট শাটডাউন
×
×

জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের নতুন ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জের যোগদান ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি সমকাল

 জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের নতুন ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জের যোগদান ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। ফলে বন্ধ রয়েছে কলেজের ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধায় গতকাল বৃহস্পতিবার যোগদান করতে পারেননি নতুন ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন।
গতকাল সকাল থেকে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন যোগদান করতে গেলে তাঁকে কলেজে ঢুকতে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। 

এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকেও তালা লাগিয়ে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে কলেজটির ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই আদেশে শেরপুরের ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এ আদেশের পর থেকে মাকসুদার যোগদান ঠেকাতে এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। নানা 
অনিয়ম-দুর্নীতি ও খারাপ আচরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেরপুরের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি টানা ৯ দিন আন্দোলন করেন। যে কারণে তাঁকে সেখান থেকে বদলি করা হয়েছে। তাই তাঁকে জামালপুরে দায়িত্ব নিতে দেবেন না শিক্ষার্থীরা।

গতকাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জয় জানান, তিন দিন ধরে আন্দোলন চলছে। বৃহস্পতিবার ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন যোগদান করতে এসেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁকে কলেজ আঙিনায় ঢুকতে দেননি। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁর যোগদানের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্য কাউকে জামালপুরের ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
শিক্ষার্থী ফারহানা বলেন, ‘শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর সামিনা আক্তার জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাকসুদা ইয়াসমিনের ভাষ্য, বদলির আদেশ পেয়ে তিনি গতকাল এসেছিলেন জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে যোগদানের শেষ দিনে এসেও যোগদান করতে পারেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি।
জামালপুর নার্সিং কলেজ থেকে বদলির আদেশ পাওয়া ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদা বলেন, গত ১২ অক্টোবর তিনিও বদলির আদেশ পেয়েছেন। গতকাল নতুন কর্মস্থল শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে তাঁর যোগদানের শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু অসুস্থজনিত কারণে সেখানে যোগদান করতে পারেননি। 
 

আরও পড়ুন

×