ঘুরতে বেরিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
নিহত আকলিমা আক্তার পাখি (৩০) ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে রাফা মনি
পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৫০ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০২
নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশালে ট্রেনে কাটা পড়ে আকলিমা আক্তার পাখি (৩০) ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে রাফা মনির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কের সামনের রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আকলিমা আক্তার পাখি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুকবাজীর গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে। তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম সৌদি আরবপ্রবাসী। তারা পলাশের ঘোড়াশালের ফুলদিরটেক গ্রামের ইছব আলীর ভাড়া বাসায় থাকতেন। আকলিমা, তার মেয়ে রাফা মনি ও শাশুড়ি আরজুদা বেগম একই বাড়িতে বসবাস করতেন।
শুক্রবার সকালে ভাড়া বাসায় গিয়ে আরজুদা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তার ছেলের বউ প্রায়ই বিকেলে নাতনিকে নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সবাই একসঙ্গে খাওয়ার পর তিনি কাপড় বিক্রি করতে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর আকলিমা মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।
সন্ধ্যার পরও তারা বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন আরজুদা বেগম। পরে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে রাত ৮টার দিকে বড় ছেলে আশিকুর রহমান ফোন করে তাকে জানান, ছোট ছেলের স্ত্রী ও মেয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। বাড়িতে ফিরে রেললাইনে গেলেও তাদের মরদেহ দেখতে পাননি তিনি। ততক্ষণে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে আরজুদা বেগম বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা নাতিকে ছাড়া কীভাবে থাকব? ছেলেকে কী জবাব দেব?’ তিনি আরও জানান, মাঝেমধ্যে ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে বউমার ঝগড়া হতে দেখেছেন। তবে এমন ঘটনা ঘটবে, তা ভাবেননি।
নিহত আকলিমার ভাসুর আশিকুর রহমান জানান, তার ভাই বিদেশ থেকে ফোন করে স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে তাকে অনুরোধ করেছিলেন। পরে তিনি তাদের ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর খবর পান। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকলিমা মেয়েকে নিয়ে ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কের কাছে যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা রেললাইনে ওঠেন। এ সময় ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই আকলিমার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রাফা মনিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে আকলিমার মা নাসিমা বেগম ও ভাসুর আশিকুর রহমান মরদেহ নিতে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আসেন। এ সময় মেয়ের ও নাতনির মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসিমা বেগম। তিনি জানান, মরদেহ দুটি গাইবান্ধায় নিয়ে দাফন করা হবে।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের সম্মতিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
- বিষয় :
- নরসিংদী
- ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত