ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে সাংবাদিককে মারধর ও অর্থ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ 

চট্টগ্রামে সাংবাদিককে মারধর ও অর্থ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ 
×
×

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:০৩

চট্টগ্রামের হালিশহরে অস্ত্রের মুখে একজন সাংবাদিককে জিম্মি করে মারধর, নগদ টাকা লুট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হালিশহরের বউবাজার ও বড়পুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আরিফ হোসেন (২৬) ও ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। তবে লুট হওয়া টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। 

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম মো. আবুল হোসাইন। তিনি চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বদেশের স্টাফ রিপোর্টার।

গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার বিকেলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে। পরে অবৈধ কাজে সেখানে উপস্থিত হওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন সড়কে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পকেটে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অভিযুক্তরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর আদায় করা হয়। এরপর বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন লেনদেনে তার অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়।

টাকা নেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক আবুল হোসাইন। তিনি দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে জোর করে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরে সেসব বক্তব্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে কিংবা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মণ্ডল জানান, মামলা দায়েরের পরপরই প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকাশ লেনদেনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×