ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মৎস্য অভয়াশ্রম পলি জমে ভরাট, হুমকির মুখে মা মাছ

মৎস্য অভয়াশ্রম পলি জমে ভরাট, হুমকির মুখে মা মাছ
×
×

ছবি- এআই দিয়ে তৈরি

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৮ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীর ‘কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রমে’ পর্যাপ্ত পানি নেই। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মা মাছ। মৎস্য বিভাগ বলছেন, সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন তারা।

দেশীয় প্রজাতির মাছের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য পীরগঞ্জের বনুয়াপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর বাঁকে ২০০১ সালে ‘কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রম’ গড়ে তোলে মৎস্য বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে অভয়াশ্রমটি রুই, কাতলা, শোল, বোয়াল, আইড়, চিতল, কই, ট্যাংরা, পুঠি, মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মা মাছের নিরাপদ আশ্রয়। প্রজনন মৌসুমে এসব দেশীয় প্রজাতির মাছ নদীর বিভিন্ন স্থানে ডিম ছেড়ে আবার ফিরে আসে অভয়াশ্রম। মৎস্য বিভাগ এবং মৎস্যজীবীদের নিবিড় পরিচর্যায় সেখানে বিপুল পরিমাণ মা মাছ বিচরণ করছে। তবে দীর্ঘ দিন ধরে খনন না হওয়ায় পলি জমে অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে অভয়াশ্রমটি। এতে হুমকির মুখে পড়েছে অভয়াশ্রমের মাছ।

কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রমের সভাপতি ফজলুল করিম জানান, এখানে ৩০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের কয়েক হাজার মা বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলা মাছ রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে পানি কমে যাওয়ায় মাছগুলো মাঝে মধ্যেই ওপরে ভেসে উঠছে। অভয়াশ্রমে স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করতে পারছে না। অভয়াশ্রমের সহসভাপতি এন্তাজুল হক জানান, অভয়াশ্রমটি পলি জমে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাদ্যভান্ডার কমে গেছে। এ জন্য মাছের বিচরণও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
পীরগঞ্জ সুজনের সভাপতি নসরতে খোদা রানা জানান, কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের খাল বিল ও নদী নালায় দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকট দেখা দেবে। কারণ অভয়াশ্রমের মা মাছের কারণে এই অঞ্চলে দেশীয় মাছের এত প্রাচুর্য।

মৎস্য অভয়াশ্রমে পানি এবং খাদ্য সংকটের কথা স্বীকার করে সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আয়শা আকতার জানান, দেশীয় প্রজাতির মা মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ‘কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রম’। দীর্ঘদিন ধরে খননকাজ না হওয়ায় পলি জমে সেখানে পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সেই সঙ্গে খাবার অভাব দেখা দিয়েছে এ অভয়াশ্রমে। প্রাথমিকভাবে সেখানে মাছের জন্য কিছু খাবার দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মৎস অভয়াশ্রমটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক শাহনেওয়াজ সিরাজী। তিনি বলেন, মা মাছের প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনের মৎস্য অভয়াশ্রমটি খননসহ মা মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ অভয়াশ্রমটি বাঁচিয়ে রাখতে মৎস্য কর্মকর্তা ও ইউএনও সরেজমিন পরিদর্শন করে খননকাজসহ প্রয়োজনীয় কি কি সহায়তা দরকার তা জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×