ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পাহাড়ে সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

পাহাড়ে সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী
×
×

রাঙামাটি জেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমন্বয় সভায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যান্যরা। ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০১

পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, সাজেকের সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। তবে কিছু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সেগুলোর সমাধান হবে।

শনিবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাঙামাটির প্রতিটি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পূজা উদ্‌যাপিত হবে বলে তিনি আশা করছেন। এ জন্য প্রশাসন নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো মিথ্যা বা অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গুজব ও বিশৃঙ্খলার ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো বিষয়ে সন্দেহ বা অসংগতি দেখা গেলে অবহেলা না করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পার্বত্য জেলা পরিষদ কিংবা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘রংধনু জাতি’ গঠনের দর্শন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। নানা জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধনই এ অঞ্চলের মূল সৌন্দর্য। প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সম্প্রীতিময় সহাবস্থান এ উদ্যোগের মূল প্রেরণা।

এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবের পাশাপাশি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান ও প্রবারণা পূর্ণিমা সুষ্ঠুভাবে উদ্‌যাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। এতে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

এদিকে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে জেলার ৪৭টি পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের হাতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন

×