মেয়েকে উত্ত্যক্তের বিচার চেয়ে হামলার শিকার ব্যবসায়ী
সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:১৭
ফেনীর সোনাগাজীতে কিশোরীকে উত্ত্যক্তের বিচার চাওয়ায় দুর্বৃত্তরা তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীগঞ্জ গ্রামের জরবা পুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী মনোয়ারুল ইসলাম (৪৫) গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্বজন, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনোয়ারুল ইসলামের মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আসা-যাওয়ার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই গ্রামের অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ফারুক। অশ্লীল কথাবার্তা ও অঙ্গভঙ্গিতে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েটি মা-বাবাকে জানায়। তারা ফারুকের বড় ভাই ও স্বজনের কাছে বিচার চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উত্ত্যক্তের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় সে। বাধ্য হয়ে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয় মেয়েটি।
এ বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানান কিশোরীর বাবা মনোয়ারুল ইসলাম। অধ্যক্ষ ফারুককে ডেকে নিয়ে বকাঝকা করে সতর্ক করেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে জরবা পুকুর এলাকায় মনোয়ারুল ইসলামের ওপর হামলা করে ফারুক ও তার বড় ভাই তারেক। তারা ধারালো ছোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। মনোয়ারুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে শুরুতে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। সেখান থেকে চিকিৎসক মনোয়ারুলকে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
চিকিৎসাধীন মনোয়ারুলের বোন ফাতেমা আক্তার বলেন, উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি বেশ কয়েকবার মায়ের কাছে জানিয়েছিল তার ভাতিজি। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে সে জানায়, আর মাদ্রাসায় যাবে না। বাধ্য হয়ে তার ভাই অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানান। এ কারণে বখাটে ফারুক ও তারেক মিলে একা পেয়ে রাতের বেলা কুপিয়েছে। তার (মনোয়ারুল) সারা শরীরে ব্যান্ডেজ করা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মুখ, পেট, পিঠ, পা ও বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। সারা শরীরে রয়েছে মারধরের দাগ। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেবেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম জানান, মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছিলেন বাবা। এ কারণে তার ওপর হামলার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা পলাতক। স্বজনেরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।