যুবদলকর্মী হত্যায় দুই ভাই গ্রেপ্তার
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:৪৮ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:৪৯
কুমিল্লায় যুবদলকর্মী আবু কাউছারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তৌহিদ ও তাঁর বড় ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্রেপ্তার দুই ভাই সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার সকালে তৌহিদ তাঁর বড় ভাই তানজিরকে ফোন করে আরও কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। তৌহিদের ধারণা ছিল ঘটনাস্থলে কাজ করতে গেলে তাদের বাধা দিতে পারেন নিহত কাউছার ও তাঁর বন্ধু শামীম। তাই তৌহিদ ও তানজির লোকজন নিয়ে প্রস্তুতি রেখেছিলেন। কাউছার তাঁর বন্ধুদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তৌহিদ, তানজিরসহ অন্যরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কাউছারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, তৌহিদকে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর নূরপুর এলাকা থেকে ডিবি ও থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। একই রাতে তানজিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মাসিহাতা এলাকার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ সাতটি মামলা এবং তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এসআরবি কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া।
এদিকে শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে কাউছারের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। নিহত কাউছারের বড় ভাই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি কবির হোসেন বলেন, পরিকল্পনা করে তাঁর ভাইকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। নিহত কাউছার নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী ছিলেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আবু কাউসার হত্যার ঘটনায় তৌহিদ ও তাঁর ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অপর জড়িতদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।