ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে অতিথিরা 

যুক্তিবাদী প্রজন্ম গঠনে বিকল্প নেই বিতর্ক অনুষ্ঠানের

যুক্তিবাদী প্রজন্ম গঠনে বিকল্প নেই বিতর্ক অনুষ্ঠানের
×
×

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি নছির মন্ডল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

রাজশাহী ব্যুরো ও মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:১৮

বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া কোনো কিছু কল্পনা করা অসম্ভব হলেও এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। নেতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে প্রযুক্তিকে কল্যাণকর কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। 

বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে অতিথিরা এসব কথা বলেন। তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিজ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

শনিবার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের এই বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’ প্রতিপাদ্যে প্রতিযোগিতায় বিভাগের জেলা চ্যাম্পিয়ন দলগুলো অংশ নেয়। 

বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) ও সমকালের যৌথ উদ্যোগে এবং সমকালের পাঠক সংগঠন সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে ১২তম আসরের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর হিসেবে রয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। 

রাজশাহী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন পাঁচবিবি নছির মন্ডল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি নছির মন্ডল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং রাজশাহীর সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রানার্সআপ হয়েছে। রানার্সআপ দলের মিফতাউল হক সেরা বক্তা নির্বাচিত হয়। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলো– মালিহা মমতাজ, রুমাইয়া জান্নাত প্রীতি ও রাফিয়া তাসনিয়া। 

সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। সমকালের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান সৌরভ হাবিবের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন– রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহীম আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ফৌজিয়া এদিব ফ্লোরা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাদিয়া আওয়াল তিশা প্রমুখ। 

বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া কিছু কল্পনা করা যায় না। তবে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। তাই বিজ্ঞানকে ভালো কাজে ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। 

বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি (উপমহাপুলিশ পরিদর্শক) মো. আশিক সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালক তাছলিমা খাতুন। 

বিচারক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক, অধ্যাপক ফৌজিয়া এদিব ফ্লোরা, অধ্যাপক মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব, সহকারী অধ্যাপক  রাদিয়া আওয়াল তিশা, সুহৃদ রুবাইয়া জান্নাত বৃষ্টি, রোহানা হক সেতু, সুমিত হাসান, সৈকত হাসান, আবু নাঈম, জুবায়ের আহমেদ, প্রিয়া খানম, জারাফা আলম ও আমেনা খাতুন। 

সমকালের নাটোর সংবাদদাতা কামরুল ইসলাম, চারঘাট প্রতিনিধি সনি আজাদ, লালপুর প্রতিনিধি আশিকুর রহমান, রাবি সুহৃদ সাধারণ সম্পাদক মো. খালিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম, সাজ্জাদুজ্জামান নাবিল, জহুরুল ইসলাম ইনন, সদস্য শেখ তৌকির আহমেদ, লুৎফর রহমান জিসান উপস্থিত ছিলেন। 

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাকি দলগুলো হলো– নাটোরের কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নওগাঁ কৃষ্ণধন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফুলকুঁড়ি ইসলামিক একাডেমি, বগুড়া জিলা স্কুল, সিরাজগঞ্জের বনোয়ারী লাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও পাবনা জিলা স্কুল। 

রংপুর বিভাগে চ্যাম্পিয়ন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় 
রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রানার্সআপ হয়েছে। সেরা বক্তা হয়েছে চ্যাম্পিয়ন দলের তাসফিয়া তাফান্নুম। তার দলে ছিল জাকিয়া জারিন জ্যোতি ও ফাইজা আফরিন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক। 

এর আগে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক। অতিথি ছিলেন রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসী আশরাফী, সিটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিক, কোষাধ্যক্ষ রেজাউল করিম জীবন। 

মডারেটর ছিলেন মো. হামীম। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ ফরিদ অভি, মুশফিকা জাফরিন, সানজিদা ইসলাম ও স্বাধীন মিয়া। 

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সমকালের রংপুর জেলা সমন্বয়কারী ও মিঠাপুকুর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান সোনা। উপস্থিত ছিলেন রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহফুজার রহমান, সমকালের দিনাজপুরের পার্বতীপুর প্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান, কুড়িগ্রামের চিলমারী প্রতিনিধি রিয়াদ বাবু, রংপুর সুহৃদ মুজিবুল ইসলাম মিঠু, মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। 

অংশ নেওয়া বাকি দলগুলো হলো নীলফামারীর সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমি, দিনাজপুরের পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গাইবান্ধা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পঞ্চগড়ের করতোয়া কালেক্টরেট আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, কুড়িগ্রামের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

আরও পড়ুন

×