ভক্ত-অনুরাগীর পদচারণায় মুখর আখড়াবাড়ি
ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান শুরু
ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে আসা ফকির, সাধুগুরু, ভক্ত ও অনুরাগীর ভিড়। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে চলছে গান। গতকাল শনিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তোলা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক ও কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার তিন দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। উৎসব ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো ভক্ত-অনুরাগী। নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে চলছে গান। উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন হয় গতকাল বিকেলে। আখড়াবাড়ির বাইরে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ঘেঁষা মূল মঞ্চে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। উপস্থিত ছিলেন মহিলা আসনের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী।
শিল্পকলা একাডেমিতে লালন স্মরণানুষ্ঠান
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় ‘লালন স্মরণানুষ্ঠান’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। লালনের গান, দর্শন ও মানবতাবোধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রাসঙ্গিকতাকে নতুন করে তুলে ধরেন বক্তা ও শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা জরুরি। নিজেদের মধ্যে সমতার মনোভাব আনা; ধর্ম কে পালন করবে আর কে করবে না– এটা তার স্বাধীনতা। কাউকে আঘাত বা হেয় না করে সবার মতকে শ্রদ্ধা করে সমতা আনা, এটাই লালনের মূল শিক্ষা; সেটারই যেন আমরা চর্চা করি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও যুগ্ম সচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, লালনের জীবন ও সাধনা এমন এক মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়– সে মানুষ। জন্মপরিচয়ের চেয়ে মানবিকতা, বিবেক ও কর্মই মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করে। লালনের দর্শনে এই বোধই গুরুত্বপূর্ণ। লালনের দর্শন শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ নয়; সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণেরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
- বিষয় :
- লালন সাঁই