নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতভর পদ্মা-মেঘনায় মা ইলিশ শিকার
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ শিকার। শ্রীনগর উপজেলার বাঘরা চরে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ভাসমান হাটে ইলিশ বেচাকেনা সমকাল
কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করছেন অসাধু জেলেরা। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চলে ইলিশ শিকার। নদীপারে বসছে ভাসমান হাট। এসব হাট থেকে ইলিশ কিনে নিচ্ছেন দূরদুরান্তের ক্রেতারা।
জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জসহ দেশের ২০টি জেলায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সব ধরনের মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সময়ে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা-মেঘনা নদীতে অবাধে চলছে ইলিশ শিকার।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে জাল ফেলে ইলিশ মাছ শিকার করছেন জেলেরা। সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই রাতভর মা ইলিশ শিকারে মেতে ওঠেন তারা। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের অভিযান চলে সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রশাসনের লোকজন ফিরে গেলেই নদীতে নেমে পড়েন অসাধু জেলেরা। সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত চলে ইলিশ শিকার। মেঘনা নদীপারের ইসমানিরচর, কালীরচর এবং পদ্মাপারের সদর উপজেলার বাংলাবাজার, টঙ্গীবাড়ির দিঘিরপাড় ও হাসাইল ইউনিয়ন, লৌহজংয়ের কলমা, কুমারভোগ, সিংহেরহাটি, বেজগাঁও এবং শ্রীনগরের বাঘরা ও ভাগ্যকুল ইউনিয়নে ভাসমান হাটে ইলিশ বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনের অভিযান বেশি থাকে। দুপুরের পর অভিযানকারী দল নদী ত্যাগ করার পর সুযোগ বুঝে ইলিশ শিকারে নেমে পড়েন জেলেরা। মেঘনা নদীর গজারিয়াঘাট সংলগ্ন মাঝ নদী, সদরের চরঝাপটা, কালিরচর, কাউয়াদি এবং বকচর এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর উজানে লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী পয়েন্টের সীমান্তবর্তী এলাকায় ও সিডারচর পয়েন্টের পদ্মা নদীতে শতাধিক নৌকা নিয়ে দিনরাত অবাধে মা ইলিশ নিধন চলছে। এ ছাড়া টঙ্গিবাড়ীর দিঘিরপাড় ও হাসাইল এলাকা-সংলগ্ন পদ্মা নদীতেও ইলিশ শিকারের অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার বাঘরারচর, লৌহজংয়ের কলমা ইউনিয়নের পদ্মা নদীতীরবর্তী এলাকার ভাসমান হাটে প্রতিদিন মা ইলিশ বেচাকেনা চলছে। এ দুই উপজেলার বিভিন্ন ভাসমান হাটে অভিযান চালিয়ে আটজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবুও এসব এলাকায় থামছে না মা ইলিশ শিকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার লৌহজংয়ের কলমা ইউনিয়নঘেঁষা পদ্মা নদীতীর থেকে ইলিশ কিনেছি। ওইখানে মেঘনা ও পদ্মা নদী থেকে ইলিশ ধরে জেলেরা বিক্রি করেন। দাম মোটামুটি কম হওয়ায় দূরদুরান্তের অনেক ক্রেতা সেখানে গিয়ে মাছ কিনে নিচ্ছেন।’
লৌহজং উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পদ্মা নদীতে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাসমান হাট বসিয়ে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয় সনাক্তের কাজ চলছে। এর পরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, এ বছর ইলিশের প্রজনন মৌসমে মুন্সীগঞ্জের জেলে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ শিকার না করেন এবং পরিবার চলতে পারে। তার পরও কতিপয় জেলে ইলিশ শিকার করছে। তবে মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- নিষেধাজ্ঞা