অতিরিক্ত কাজে ব্যয় বাড়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি
রাজ্জাক মিকা, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রকল্পের শুরুতে ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহ করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ৩৩০টি বাড়ি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮০টিতে। তবে প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ বাড়েনি। ফলে পুরো কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও নিরাপদ পানি পাচ্ছেন না উপকারভোগীরা। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এই ঘটনা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের।
জানা গেছে, চরমাদার গ্রামের ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ‘নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ নেয় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল। দেড় বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ শুরু করতে পাঁচ মাস দেরি করে বিএম ট্রেড নামে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে চরমাদার গ্রামে। চরমাদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে বসানো হয়েছে অভারহেড ট্যাঙ্ক বা উচ্চ জলাধার। দেখা যায়, উচ্চ জলাধার থেকে চারপাশের ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ সংযোগ ও প্লাটফর্ম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অসমাপ্ত রয়েছে মোটর বা পাম্প বসানোসহ কারিগরি কাজ। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রকল্পটি চালু হলে আয়রনমুক্ত নিরাপদ পানি পাবেন তারা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকারভোগীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে কমিটি করা হবে। এই কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে প্রকল্পটি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির চুক্তি মোতাবেক ওই এলাকার ৫০টি বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ৩৩০টি বাড়ি বৃদ্ধি করে মোট ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ সংযোগ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বেড়ে গেলেও বাড়তি ৩৩০ বাড়িতে সংযোগ স্থাপন বাবদ প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় করা হয়নি। ফলে ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করে ৩০ শতাংশ কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রকল্পের বাকি ৩০ শতকের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিয়ে ইতোমধ্যে চার থেকে পাঁচটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা আমলে নিচ্ছে না। প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় না করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত কাজ করবে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজি মো. শাসছুল হকের ভাষ্য, এলাকায় একটি পানির ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি তা চালু হচ্ছে না। পানির লাইন চালু হলে গ্রামবাসীর খুব উপকার হতো। প্রকল্পটি চালু হলে গ্রামবাসী আয়রনমুক্ত নিরাপদ পানি পেত। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি।
উপকারভোগী নুর নাহার বলেন, ‘গিরামে (গ্রামে) পানির লাইন হইল কিন্তু আমরা সুবিধা পাইলাম না। আমাগো কলের পানিতে আয়রন আছে। পানির লাইন চালু হইলে আমরা আয়রনমুক্ত পানি পাইতাম। আমরা ফ্রেশ পানির জন্য লাইন নিছি। কিন্তু তিন বছর পার হইলেও আমরা আয়রনমুক্ত পানি পাইলাম না।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিএম ট্রেডের প্রকৌশলী শহিদ মিয়া জানান, তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অন্য একটি প্রকল্পের কাজে ব্যস্ত ছিল। এখন সে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রকল্পটির অসমাপ্ত কাজ চলতি মাসে শুরু করা হবে।
ঠিকাদার বাবলু মিয়া বলেন, তারা ওই প্রকল্পে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। ৫০টির পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী ৩৮০টি পরিবারে পানি সরবরাহের সংযোগ দিয়েছেন। এ জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। বাজেটটি নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস থেকে পাস হয়েছে। এখন সেটি প্রকল্প পরিচালকের অফিসে রয়েছে। সেখান থেকে বাজেটটি অনুমোদিত হবে। তবে তারা বলেছে কাজ শেষ করতে। আশা করা যাচ্ছে দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুর রহমানের ভাষ্য, অতিরিক্ত কাজের জন্য ‘রিভাইজ বাজেট’ করা হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। বাজেটটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত কাজ শিগগির শুরু করবে।
- বিষয় :
- পানি