ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মামলায় আসামির তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মামলায় আসামির তালিকা নিয়ে প্রশ্ন
×
×

সুনামগঞ্জের দোয়ারবাজারে মরা চেলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল

 ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় চেলা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেট নদী ধ্বংস করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু লুটপাট করলেও অধরা থেকে যাচ্ছে অপরাধের মূল হোতারা।

এদিকে মূল দোষীদের বাঁচাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের করা মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে স্থানীয় শিক্ষক, দিনমজুর ও নদী রক্ষার আন্দোলনকারী নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেখানে। এমনই অভিযোগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালুখেকো চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিলছে হুমকি-ধমকি এবং মিথ্যা মামলার আসামি করার ভীতি। 
এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত ৬ অক্টোবর দোয়ারাবাজার থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাইমিনুল হক। ৫ অক্টোবর সোনাপুর এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনের পর এই মামলা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মূল অপরাধীদের বাদ দিয়ে নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ কর্মী সৈকত আলী, মোহাম্মদ আলী ও সুজন মিয়া এবং দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হাজি স্বপন মিয়া, ফয়েজ উদ্দিন ও বিএনপিকর্মী আব্দুর রউফ ও ছেনু মিয়ার নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই বালু লুটপাটে জড়িত।

মামলার আসামি সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক ও ফার্মেসি ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘শিক্ষকতার পাশাপাশি সামান্য ফার্মেসি ব্যবসা পরিচালনা করি। বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমার বা পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।’

শুধু আসামিই নয়, মামলার সাক্ষীদের নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ সোনাপুর গ্রামের সাক্ষী ছামির আলী জানান, তিনি এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না। অপর সাক্ষী পূর্ব সোনাপুর হুসাইনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মো. আবু তাহের বলেন, তাঁর অজান্তেই তাঁকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজারের ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সুহেল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার ফলে ওই অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর দাবি, কেবল সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার বা মিথ্যা মামলা দিয়ে এই তাণ্ডব থামানো যাবে না। বালু ব্যবসার মূল অর্থায়নকারী, নিয়ন্ত্রক ও বিপণনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নদী থেকে উত্তোলিত বালুর ডাম্পিং পয়েন্টে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মজুত করা বালু জব্দ করতে হবে।
মামলার আসামি, ছাত্রদল নেতা মাহবুবুল হক শামীম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি বরাবরই এই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। অথচ তাঁকেই জড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মূলহোতা হিসেবে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও নাগাল পাওয়া যায়নি।
প্রকৃত অপরাধীদের বাদ দিয়ে নির্দোষদের আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাইমিনুল হক জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে এজাহারের বাইরে থাকা মূল বালুখেকোদের নাম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে (চার্জশিট) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন

×