ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বেলকা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেন স্থানীয়দের খড়ি রাখার ঘর

বেলকা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেন স্থানীয়দের খড়ি রাখার ঘর
×
×

 সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুন্দরগঞ্জের বেলকা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যেন স্থানীয়দের খড়ি রাখার ঘর আর পোকামাকড়ের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। জঙ্গলে ভরে গেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চারপাশ। সরকারের অর্ধকোটি টাকার ভবন এখন প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য। অথচ দেখার যেন কেউ নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে ঢুকলে মনে হবে এখানে মনে হয় কত বছর ধরে এটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৬২টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে। 

১৫টি ইউনিয়নে ১৫ জন মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ১৫ ইউনিয়নে ১৭ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স চালকের মঞ্জুরীকৃত পদ আছে। তবে একজনও মেডিকেল অফিসার, সার্জন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। 
বেলকা বাজারের মো. রবিউল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থা দেখলে মনে হয়, এখানে কোনো প্রকার কর্তৃপক্ষ নেই। সপ্তাহে দুই দিন অথবা এক দিন খোলা থাকে। তাও কয়েক ঘণ্টার জন্য। এখানে একজন পুরুষ ও একজন নারী কর্মী ওষুধ বিতরণ করে থাকেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বারান্দায় খড়ির স্তূপ, সামনে মাইক্রোবাস, ট্রলি, ভটভটি পার্ক করে রাখা হয়। ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের বাঁশ সবসময় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চারপাশ জঙ্গলে ভরা। চিকিৎসা নেওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই। ভেতরে পোকামাকড় বাসা বেঁধেছে।
বেলকা চরের ছালেমা বেগম বলেন, তিন দিন ওষুধ নিবার আসি ঘুরি গেছি। আজকেও ডাক্তার নেই। এর আগে সব সময় ওষুধ পাওয়া গেছে। এখন হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলে মনে হয়, কত দিন থাকি কেউ আইসে না। 

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১১টি পদ থাকলেও বর্তমানে দায়িত্বে নেই কেউ। একজন ফার্মাসিস্ট অন্যান্য উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি  
এখানে সপ্তাহে দুদিন বসেন। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট মোফাখারুল ইসলাম বলেন, একাই বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। এখানে সপ্তাহে দুদিন ওষুধ বিতরণ করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, নিয়মিত অফিস খোলা না থাকলে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা না থাকলে একার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এ অবস্থার জন্য দায়ী তো এলাকাবাসী। চিকিৎসক বা জনবলের সংকট রয়েছে, এটি সত্য। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা করতে হলে চারপাশের মানুষের আন্তরিকতার বিকল্প নেই। 

আরও পড়ুন

×