ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পাঁচ দিনেও পৌর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই

পাঁচ দিনেও পৌর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই
×
×

রংপুরের পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের প্রধান ফটক গত মঙ্গলবার ধসে পড়ে সমকাল

 মাজহারুল আলম মিলন, পীরগঞ্জ (রংপুর) 

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের প্রধান ফটকের ছাদ ধসে দুজন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ দিন পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা পলাতক। তারা অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও এ নিয়ে কোনো দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হলেও নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। এতদিন পরে এসে গতকাল শনিবার কেবল মামলার কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে থানা পুলিশের কাছে।

দুই শ্রমিকের মৃত্যুসহ কয়েকজন আহতের ঘটনাটি ঘটে পাঁচ দিন আগে গত ১৩ অক্টোবর। পরদিন নিহত আসাদুলের বাবা ঠান্ডা মণ্ডল পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ঠিকাদার, পৌর নির্বাহী, পৌর প্রকৌশলী, সাব-ঠিকাদারসহ মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির ধারায় মামলাটি রুজু হয়। এরপর পৌর নির্বাহী (সচিব) আব্দুর রহিম প্রামাণিক টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেল হাজতে পাঠান। 

মামলায় পৌর নির্বাহী আব্দুর রহিম প্রামানিক টিপু ছাড়াও পৌর প্রকৌশলী নুরুজ্জামান সরকার, উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেরাব হোসেন জনি এবং কার্যসহকারী রাফিকুন খান এজাহারভুক্ত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পৌর নির্বাহী জেল হাজতে থাকলেও বাকিরা পলাতক। তারা অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও এ নিয়ে কোনো তৎপরতা নেই পৌর প্রশাসনের।
মামলায় পৌর কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রধান ঠিকাদার ভিশন ২০২০ এর স্বত্বাধিকারী শাহিদুল ইসলাম, সাব-ঠিকাদার রংপুরের হাফিজুর রহমান ও পীরগঞ্জের লাবলু, প্রধান ঠিকাদারের ম্যানেজার ওলিউল্লাহ ওলি এবং নয়নকে আসামি করা হয়। 

পৌরসভাগুলো মূলত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে তাদের সব কার্যক্রম মনিটরিং করেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি। মূলত পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলিসহ শাস্তিযোগ্য বিষয়ের চিঠিতে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির স্বাক্ষর থাকে। 
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কর্মরত অবস্থায় কারাদণ্ড বা গ্রেপ্তার হলে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী নিয়ম ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নির্ধারিত রয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি কোনো অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে আটক থাকলে আটক থাকার প্রথম দিন থেকেই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বিরুদ্ধেও একই বিধান রয়েছে।  

এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি (পরিচালক) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিডিএলজি শরিফুল আলম মোবাইল ফোনে জানান, আজ (গতকাল) সংশ্লিষ্ট থানার কাছ থেকে মামলা-সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। কাগজপত্র হাতে পেলেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
এ প্রসঙ্গে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি বলেন, ঘটনার পরদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এদিকে, হতাহতের ঘটনার কারণ উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গত বৃহস্পতিবার কমিটির সদস্যরা সরেজমিন গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন এবং ধ্বংসস্তূপ ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান রেহেনুমা তারান্নুম সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও এর পেছনে কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা, তা নিরূপণ করতে কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরি তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×