জুলাইযোদ্ধাদের ল্যাপটপ বিতরণ, ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার পোস্ট ঘিরে বিতর্ক
জয়পুরহাট
ফয়সাল আলিম (ছবি: সংগৃহীত)
জয়পুরহাট ও আক্কেলপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:২৮ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০৩
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ, সারের ডিলারশিপ বণ্টন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। তাঁর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
পোস্টের মন্তব্যে কেউ তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। কেউ স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেনও পোস্টটি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া পোস্টে ফয়সাল আলিম লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলো ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ গত ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এখন আর কিছুই নেই। তাই ‘খাওয়া’ স্থগিত হয়ে গেছে।
সারের ডিলারশিপ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বরং আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ডিলারশিপ বণ্টনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি, আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’
ফয়সাল আলিমের বাবা আব্দুল আলিম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে জয়পুরহাট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসনটি জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ফয়সাল আলিমের পোস্টের মন্তব্যে তারিক হোসেন খান লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো, এখন মেম্বার চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে। ওরা বলছে, আসো সবাই আসো, টাকা দাও টিকিট নাও।’ তাঁর মন্তব্যে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
পোস্টের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন লেখেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ফয়সাল আলিমের নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সামনে আনা উচিত। তিনি লেখেন, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ তাঁর মতে, এ ধরনের পোস্ট দলের ভেতরে বিতর্ক, ভাঙন ও কোন্দল তৈরি করছে।

ফয়সাল আলিমের পোস্টকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করেন জিল্লুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে এভাবে লেখার ফলে জামায়াত সুবিধা পেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।
সম্প্রতি জয়পুরহাট জেলা পরিষদ থেকে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। ওই বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেন ফয়সাল আলিম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’
সাররের ডিলারশিপ বণ্টন প্রসঙ্গে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতাকর্মীর অভাব ছিল? তারা পেলেন না কেন?’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’
তবে ল্যাপটপ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত পারসেন্টেজ এবং সার ডিলারশিপ বণ্টনে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ফয়সাল আলিম নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত জানাননি।
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিমের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তার কিছুই মনে হয়নি।’
- বিষয় :
- বিএনপি নেতা
- জয়পুরহাট
- ল্যাপটপ