ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরব

দুই ভাইকে কুপিয়ে ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

দুই ভাইকে কুপিয়ে ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা
×
×

ছবি: গুগল ম্যাপ

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৪৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে রাজি না হওয়া একটি কারখানার মালিক দুই ভাইকে কুপিয়ে-পিটিয়ে ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল রোববার দুপুর দুইটার দিকে পৌর এলাকার চন্ডিবের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আহত দুই ভাইয়ের একজন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অন্যজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন– চন্ডিবের এলাকার মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে নুরুল হক (৪৫) ও তাঁর ছোট ভাই মাসুদ রানা (৪০)। যৌথভাবে তারা ওই এলাকার খাজা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। সেখানে তারজালি বা গুনা তৈরি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেশ কয়েক বছর ধরে দুই ভাই অক্লান্ত পরিশ্রমে চন্ডিবের এলাকায় কারখানাটি গড়ে তোলেন। তাদের ব্যবসা লাভজনক হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় মোহাম্মদ আলী, তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন সন্ত্রাসীর চোখে পড়ে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। অতীতে আতঙ্কিত হয়ে বেশ কয়েকবার চাঁদাও দিয়েছেন কারখানার মালিকেরা। সম্প্রতি চক্রটি আরও বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। এত টাকা দিতে তারা রাজি হননি। এ কারণে চক্রটি দুই ভাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

নুরুল হক বলেন, গতকাল রোববার দুপুরে কারখানা থেকে ১৬ লাখ টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে ব্যাংকে রওনা হন। সঙ্গে তাঁর ভাই মাসুদ রানাও ছিলেন। এ সময় মোহাম্মদ আলী ও তাঁর সঙ্গীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোটা দিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। এরই মধ্যে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাদের কাছে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আত্মীয়-স্বজন দুই ভাইকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল করিম জানান, দুই ভাইয়ের হাতে ও পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নুরুল হকের একটি পা ভেঙে গেছে। রক্তক্ষরণ বেশি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ছোট ভাই মাসুদ রানাকে স্থানীয় হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর সহযোগীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

ভৈরব থানার উপরিদর্শক (এসআই) আসিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ওসির নির্দেশে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন

×