ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি বরিশাল কলেজ

ছাত্রাবাস নির্মাণে পুকুর ভরাট, সিটি করপোরেশনের বাধা

ছাত্রাবাস নির্মাণে পুকুর ভরাট, সিটি করপোরেশনের বাধা
×
×

ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৪৬

প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন না মেনে সরকারি বরিশাল কলেজের একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে পুকুরটিতে বালু ফেলে একাংশ ভরাট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে গতকাল রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকেও এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনের পরিকল্পনায়  পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। এতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম টিপু সহায়তায় করছেন। 
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মহানগরীর মধ্যে কোনো পুকুর ভরাট দণ্ডনীয় অপরাধ। এর শ্রেণি পরিবর্তনও নিষিদ্ধ। এ আইন লঙ্ঘন হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের 
বিধান রয়েছে।  

সরেজমিন দেখা যায়, কলেজ কম্পাউন্ডসংলগ্ন পুকুরটির দক্ষিণ পাশের একাংশ আগে থেকেই ভরাট করা। গত শনিবার রাতের মধ্যেই পুকুরটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভরাট হয়ে যায়। এক একরের বেশি আয়তনের পুকুরটির দক্ষিণ দিকে প্রায় অর্ধেক ভরাট করে ১০ বছর আগে মসজিদ নির্মাণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বাকি অংশ ছিল কচুরিপানায় ভরা। 

স্থানীয়রা মনে করেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজনে যথাযথ নিয়ম মেনে জলাশয়টি ভরাট করছে কিনা, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা উচিত।

বরিশাল নগর উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, পুকুরটি অশ্বিনী কুমার দত্তের স্মৃতি বিজড়িত। তাঁর বাড়ির আঙিনায় পুকুরটি ছিল। সেই পুকুর এভাবে ধ্বংস করা কলেজ কর্তৃপক্ষের ঠিক হয়নি।  

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা বহু আগে থেকেই চলছে। এ নিয়ে পরিবেশবাদীরা আন্দোলনও করেছেন। পুকুরটি স্থানীয় মানুষের পানির চাহিদা মেটাত এবং এর সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনই পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পুকুরটি ভরাট করছে।

জানতে চাইলে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, এটা একটা ডোবা। সেখানে অশ্বিনী কুমার দত্তের নামে ছাত্রাবাস করা হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ সেখানে বালু ফেলছে। তাঁর দাবি, জায়গাটি সিটি করপোরেশনের নয়, কলেজের। কলেজের কাজ তারা কীভাবে বন্ধ করেন, সে প্রশ্নও তোলেন টিপু।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে সকালে লোক পাঠানো হয়েছিল। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান মো. লকিতুল্লাহ শিকদার বলেন, প্রশাসকের নির্দেশে রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি কাজ বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

কলেজ অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল। তবে বাধা পাওয়ায় আর ভরাট করা হবে না। তাঁর দাবি, কলেজের গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি ভরাটের কাজের দায়িত্বে ছিল।

আরও পড়ুন

×